ওসমানীনগরে নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীর মাথা থেঁতলানো লাশ

572

সিলেট সংবাদদাতা: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ইউসুফ আলী (২৩) নামের এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে তার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার তাজপুর ইউপির তাজপুর ডিগ্রি কলেজের পাশে মায়ের দোয়া সিট সেন্টার নামের ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইউসুফ আলীর মাথা থেঁতলানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে আটক করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

নিহত ইউসুফ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কালোপাগড়া গ্রামের মৃত রিয়াছত উল্যার ছেলে। ৪-৫ বছর ধরে তাজপুরে অবস্থান করে সিএনজি অটোরিকশার সিট লাগানোর ব্যবসা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফ আলী রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই ঘুমাতেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দোকান না খোলায় পাশের দোকান মদিনা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের কর্মচারী বিশ্বনাথ উপজেলার মুফতিরগাঁও গ্রামের হলুক মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া ইউসুফকে ডাকাডাকি করেন।

ইউসুফের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আক্তার মিয়া দোকানের সাটার টান দিলে সাটার খোলা পাওয়া যায়। এ সময় দোকানের ভেতর ইউসুফের মাথা থেঁতলানো লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ইউসুফ আলীর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে থানায় নিয়ে যায়। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আটককৃতের নাম প্রকাশ করেনি।

এ দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সদ্য পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ইমাম মোহাম্মদ শাদীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান ও ওসি এসএম আল মামুন।

নিহত ইউসুফ আলীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মার্কেটের চায়ের দোকানি মিলন মিয়া বলেন, আমার দোকানে রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত রিকশাচালক অলি, হাবুল, রুবেল ও ফাহিম ক্যারামবোর্ড খেলে। এ সময় ওই চারজনের খেলা দেখার জন্য তাদের সঙ্গে ছিল নিহত ইউসুফ আলী। ইউসুফসহ খেলোয়াড়রা একসঙ্গে চা পান করেন।

তিনি বলেন, আমি রাত ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। সকালে দোকানে এসে ইউসুফকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারি।

নিহত ইউসুফের বড় ভাই মোজাম্মিল আলী বলেন, আমরা চার ভাইয়ের মধ্যে ইউসুফ সবার ছোট। এখনো সে বিয়েশাদি করেনি। গত বৃহস্পতিবার সে বাড়িতে গিয়েছিল। রোববার পুনরায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাজপুরে ফিরে আসে। শনিবার বাড়িতে তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়। আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন ব্যবসায়ী খুনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কী কারণে কে বা কারা ইউসুফকে হত্যা করেছে তার কোনো ক্লু এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, লোহার রড় অথবা ভারি কোনো জিনিস দিয়ে মাথার ডান দিকে আঘাত করে ইউসুফকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করা যাবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।