পপলার মস্কে বৃহত্তর কিরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

546

সৈয়দ আব্দুল কাদির : বিপুল উৎসাহ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর রবিবার পপলার মস্ক এন্ড কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় ৭৫ জন প্রতিযোগীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো এক কিরাত প্রতিযোগিতা। প্রত্যেক প্রতিযোগীর সাথে ঐ সময় উপস্থিত ছিলেন পিতা-মাতা, ভাইবোন এবং অভিভাবকগন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদের নিয়মিত অনেক মুসল্লিগন। এ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল পপলার মস্ক এন্ড কমিউনিটি সেন্টার।
দুই দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক লোকের সমাগম হয়েছিল পপলার মস্ক এন্ড কমিউনিটি সেন্টারে। মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার পর থেকে এ রকম একটা কিরাত প্রতিযোগিতার সর্ব বৃহৎ উদ্যোগ এটাই প্রথম বলে মুসল্লিগণ মনে করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে এটাও তাঁরা কামনা করেন। তিন জন অভিজ্ঞ হাফিজের তত্ত্বাবধানে ৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কিরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এদের মধ্য হতে প্রথম বাছাই পর্বে ৩৬ জন কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। এই ৩৬ জনের মধ্য হতে সেমি ফাইন্যালে ১৮ জন এবং এদের মধ্য হতে পরিশেষে ১১ জন ফ্যাইনাল প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়।

তারপর দ্বিতীয় দিন গত ২৬ ডিসেম্বর বুধবার ফাইন্যাল প্রতিযোগিতায় জুনিয়র গ্রুপে: প্রথম স্থান লাভ করে রাফসান শিকদার, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে তাওহীদ রাহমান, তৃতীয় স্থান লাভ করে দাউদ হোসাইন, চতুর্থ স্থান লাভ করে হামজা আলী এবং পঞ্চম স্থান লাভ করে আইজা সালাহউদ্দিন। মিড জুনিয়র গ্রুপে: প্রথম স্থান অর্জন করে মোঃ আব্দুল্লাহ, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে মাহির চৌধুরী এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে আব্দুররাহমান। সিনিয়র গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করে উৎমান আবু বকর, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে হুমাইরা ইয়াসমিন এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে আবরার শেইখ। ফাইন্যাল কিরাত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী সকলকে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ইসলাম ধর্মের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এবং যুব সমাজকে মসজিদমূখি করার জন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে পপলার মস্ক এন্ড কমিউনিটি সেন্টারে। মসজিদের মুসল্লিগণ এবং যুব সমাজকে বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামিক জ্ঞানার্জনের জন্য কোরআন ও হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন বিষয়ের উপর ইতোমধ্যেই সাপ্তাহিক আলোচনা হচ্ছে। এতে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। অনেক কিছু জানতে পারছেন। মসজিদে এ ধরনের সাপ্তাহিক তাফসিরুল কোরআন ও সিরাতুন্নবীর উপর গুরুত্বপূর্ন আলোচনা খুবই দরকারি। এ ধরনের আলোচনা যেন সব সময় অব্যাহত থাকে মসজিদের মুসল্লিগণ এবং স্থানীয় অধিবাসীগণ এটাই প্রত্যাশা করেন। যুব সমাজকে মসজিদমুখী করতে এবং এলাকার মহিলাদেরও ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে জরুরী জ্ঞানার্জনের জন্য আগামীতে আরো বহু উদ্যোগ নেয়া হবে বলে উদ্যোক্তাগণ জানিয়েছেন। এ জন্য তাঁরা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পপলার মস্ক এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের ইমাম হাফিজ হাফিজুর রহমান এবং তাঁকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন মসজিদের অনেক মুসল্লি, তাঁর সহকর্মী উক্ত মসজিদের ইমাম হাফিজ শফিউল ইসলাম, মোয়াজ্জিন হাফিজ মাওলানা জিয়াউর রহমান এবং মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

ফাইন্যাল কিরাত প্রতিযোগিতার পুর্বে কোরআন ও হাদিসের আলোকে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পপলার মস্ক এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের সাবেক ইমাম, ইব্রাহিম কলেজের বর্তমান লেকচারার মুফতি হাফিজ খালেদুল হক এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাদ্দিস শেইখ আকরাম নাদওয়ি। ফাইন্যাল কিরাত প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব বরেণ্য কারি হাজ্জা আল বালুশি। তাঁর কন্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শুনে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন শেইখ আখতার হোসাইন। এই অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে বিসমিল্লাহ হাজ্জ এন্ড উমরাহ এবং সাকিনাহ টোরস