ঢাকা সংবাদদাতা: রবিবারের ভোটকে সুষ্ঠু দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ তার ইচ্ছামতো ভোট দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের বিস্ময়কর পরাজয়ের কারণও ব্যাখ্যা করেন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের কাছে।
তিনি বলেছেন, নেতৃত্বহীনতা, প্রার্থীদের নিস্ক্রিয়তা ও মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে যোগ্যদের বাদ পড়ার কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিরোধী জোটের।
অন্যদিকে পরপর দুই মেয়াদে সরকার গঠন করে দেশের মানুষের জীবন-মান ও অবকাঠামোর উন্নয়নের কারণে জনগণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে ভরসা রেখে বিশাল জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
ভোটের পরদিন সোমবার নির্বাচন দেখতে আসা বিদেশি সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী। গণভবনে এই আয়োজনে বিদেশিরা শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন রাখেন নানা বিষয়ে।
বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের প্রধান বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর দলের ২৫ জনকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিয়েছে। এজন্য তাদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আওয়ামী লীগের জয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশজুড়ে অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ছাড়াও ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বিগত বছরগুলোতে মানুষ অধিকতর ভালো জীবন-যাপন করেছে। এজন্য তারা আমাদের ভোট দিয়েছে। এ সময় বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষার প্রসার, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছে। এজন্য তরুণরাও আকৃষ্ট হয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের জন্য রাজনীতি করলে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। আজকের পরাজিতরা যদি জনগণের জন্য রাজনীতি করে তাহলে তারাও আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বিএনপির হারের যত কারণ
বিরোধী জোটের মাত্র সাতটি আসন পাওয়া নিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন রাখেন বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসন পেয়েছে তাদের নিজেদের কারণে। নির্বাচন হলে মানুষ চিন্তা করে কে প্রধানমন্ত্রী হবে। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট কাউকে সেভাবে জাতির সামনে দেখাতে পারেনি।’
‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালে আপনারা দেখবেন-কংগ্রেসও গত নির্বাচনের আগে দেখাতে পারেনি তাদের প্রধান কে হবেন? তারা মানুষকে ওইভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি। ঐক্যফ্রন্টের ক্ষেত্রেও তাই-ই হয়েছে।’
ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি শাসনামলে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদের কথাও তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। বলেছেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা ইত্যাদি কারণে মানুষ তাদের রিজেক্ট করেছে।’
বিএনপির নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের নির্বাচন পরিচালনায় দক্ষতার অভাব, মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে গোলযোগসহ আরো বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে আওয়ামী লীগ সফলতা পেয়েছে বিস্ময়কর। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে দলটি যে হারে ভোট পেয়েছে, এবার পেয়েছে তার চেয়ে বেশি। ২৫৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জিতেছে ২৫৬টিতেই। আবার শরিক দলকে দেওয়া ১৪টি আসনের ১১টি আসনেই জয় এসেছে।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, এই নির্বাচনে তাদেরকে হারানো হয়েছে কারচুপি করে। তাদের ভোটারদেরকে কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। আর আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে নৌকায় ভোট দিয়ে।
তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচনে কোনও অনিয়ম হলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বন্ধ করে দিতো।’
‘এই নির্বাচনটা খুবই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এর আগে কখনও এতটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়নি। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ। এই নির্বাচনে আমাদের জনগণ অবাধে ও ভীতিহীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়েছে নির্বাচনে। এতে আমাদের দলের কিছু কর্মীও মারা গেছে। এজন্য আমরা দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।’
বিএনপির পরাজয়ের কারণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি তাদের জোটে মানবতাবিরোধীদের মনোনয়ন দিয়েছে। … আর বিএনপির মূল লিডাররা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত এবং আদালতের রায়ে অভিযুক্ত। তাদের একজন কারাগারে ও অন্যজন পলাতক। সুতরাং তাদের মূল নেতৃত্বের অভাব ছিল। পরাজয়ের এটিও একটি কারণ।’
স্বাধীনতাবিরোধী জামায়তে ইসলামীর ২২ জন নেতাকে বিএনপি এবার মনোনয়ন দিয়েছে। নিবন্ধন হারানো দলটির ২১ জনকে দলীয় প্রতীক এবং একজনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরের সঙ্গে জোটবদ্ধতা নিয়ে বিএনপিকে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। আর এবার দলের প্রতীক দেওয়া নিয়ে নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টেও ছিল বিরূপ প্রতিক্রিয়া। কামাল হোসেন বিদেশি একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, জামায়াত ধানের শীষ পাবে জানলে তিনি ঐক্যফ্রন্টে যেতেনই না।
খালেদা-তারেকের দণ্ড প্রসঙ্গ
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে। দুর্নীতির দুই মামলার পাশাপাশি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত তারেক রহমান অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যে। যদিও মনোনয়নের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। তারা টাকার বিনিময়ে অর্থাৎ যে টাকা বেশি দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়নি তারা। একেকটা আসনে চারজন, পাঁচজন ও তিনজন করে নমিনেশন দিয়েছে। এতে কেউ আর ওইভাবে মাঠে কাজ করেনি। কে কী করবে, না করবে না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কেউ কাজ করেনি।’
কামাল হোসেনের ‘অনভিজ্ঞতা’
বিএনপির নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা কামাল হোসেনের নির্বাচন পরিচালনায় অভিজ্ঞতার অভাবও তাদের হারের একটি কারণ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে কামাল হোসেন খুবই ভালো। কিন্তু তিনি যখন তার দল গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন তখন থেকেই তার নির্বাচন পরিচালনা করার ভালো অভিজ্ঞতা নেই, জেতারও কোনো অভিজ্ঞতা নেই।’
কামাল হোসেন রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আওয়ামী লীগ করতেন। ১৯৭৩ সালে দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকার একটি আসনে জেতেন। তবে ১৯৮২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে নৌকা নিয়ে হারেন। তার পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিরোধে আলাদা হয়ে গঠন করেন গণফোরাম। ১৯৯৬ সালে ঢাকার ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর আসন থেকে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর আর ভোটে দাঁড়াননি। গত অক্টোবরে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে আবার তিনি আলোচনায় আসেন।
ভোটের প্রচারে বিএনপির ’নিষ্ক্রিয়তা’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করেছি- তারা (বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট) নির্বাচনী কোনো কাজ করেনি। কয়েকজনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও অনেকেই অ্যাক্টিভিটি না করে প্রোপাগান্ডা ছাড়া সে রকম কিছু করেনি।’
নির্বাচন কমিশন স্বাধীন
রয়টার্সের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র বলেছেন, অনেক স্থানেই ভোট বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা কি আশা করতে পারি, নির্বাচন কমিশন বা সরকার এই ঘটনার তদন্ত করবে?’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই তারা করতে পারে। অতীতেও এমন তদন্ত করেছে তারা। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা।’
‘কমিশন স্বাধীন। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তারা যদি তদন্ত করতে গিয়ে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণায় এক মাস দেরি করতে চায় তাহলে তারা এটা করতে পারে। তাদের এ ক্ষমতা রয়েছে।’
‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচনী ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য নির্বাচন কমিশনকে একটি সাংবিধানিক সংস্থায় পরিণত করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র অগ্রসর হচ্ছে।’
‘অতীতে মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় বসেছে। বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্ট থেকে। আমি-ই একমাত্র ব্যক্তি যে কি-না ক্যান্টনমেন্ট থেকে না এসে দেশ পরিচালনা করছি। গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারেনি। আমি সব সময়-ই চিন্তা করেছি, জনগণ ভোট দিলে (ক্ষমতায়) থাকব, অন্যথায় থাকব না।’
এনফ্রেলকে ভোট দেখতে আসতে না দেওয়া প্রসঙ্গ
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদক বলেন, ‘এবার বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। ভিসা জটিলতায় অনেকেই আসতে পারেননি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই তাদের আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়নি। এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে আনফ্রেলের নির্বাচন পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘এনফ্রেল বাংলাদেশের নির্বাচনের আগের দিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের বিবৃতির ভাষা, মর্যাদাহানিকর। তাদের বিবৃতি, ভুল তথ্য ও অনুমাননির্ভর। এনফিল্ডের লোকাল চ্যাপ্টার হচ্ছে অধিকার। অধিকারের চেয়ারম্যান আদিলুর রহমান। এনফিল্ড ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে অ্যাডভোকেসি করছিল। তারা ভুল জায়গায় অ্যাডভোকেসি করেছে। সাংবিধানিক ধারা অনুসারে, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বর্তমানে বা পূর্বে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কেউ পর্যবেক্ষক হতে পারবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এনফ্রেলকে এবার দেশে ভোট দেখতে আসতে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পৃক্ত মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রধান আদিলুর রহমান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ২০১৩ সালের ৫ মে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামীর ঢাকা অবরোধের দিন গোলযোগের ঘটনায় প্রাণহানির অবাস্তব তথ্য দিয়ে তারা উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযানে কারো প্রাণহানির তথ্য মেলেনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিরোধীদেরও নিরাপত্তা দেব
আলজাজিরার ওই সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্যে সহিংসতা হয়ে আসছে। আপনি কি সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনবেন?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন। নির্বাচনের পরে কয় ঘণ্টা পার হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আমরা কিন্তু এখনও প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরূপ কোনো আচরণ করিনি। অথচ ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত আমাদের কর্মীদের মেরেছিল। নারীদের ধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। আমাদের অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা কিন্তু তেমনটা করিনি। আমাদের নেতাকর্মীরা বিরোধী দলকে কোনো হয়রানি করেনি।’
‘ক্ষমতাসীন দল কিংবা বিরোধী দল স্বাধীন। বিরোধী দল নির্বাচনে জিততেই পারে। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের কোনও রকম হয়রানি করেননি। বরং বিরোধী দলের হামলায় আমাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আমি তাদের নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছি, সংলাপ করেছি। আমি অনেক সময় ব্যয় করেছি, যেন তারা নির্বাচনে অংশ নেয়। আমরা তাদের ওপর চড়াও হতে চাই না। আমরা দেশের উন্নতি চাই।;
বিরোধীদের নিরাপত্তা বিষয়ে এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হই তখন সকল মানুষই প্রধানমন্ত্রী। সবাইকে সুরক্ষা দেওয়া আমার দায়িত্ব। ভোটের অধিকার মানুষের, ভোট দেওয়ার সময় মানুষ যাকে ইচ্ছা তাকে দেবে। কিন্তু ভোটের পর সবাই সমান।’
‘আমাদের দেশের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে। সবাই রাজনৈতিক চর্চা করবে। কিন্তু আমরা সহিংসতা ও পেট্রল বোমার রাজনীতি সমর্থন করব না।’
সংসদে সক্রিয় বিরোধীদল না থাকায় চিন্তিত কি না। আর এতে আবার সহিংসতা হতে পারে কি না, জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সহিংসতা ঠেকাতে যেকোনও পদক্ষেপ নেব।’
‘ইন্টারনেটের গতি কমানো হয়নি’
ভোটে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার কারণ জানতে চান একজন সাংবাদিক। বলেন, ‘আমাদের ইন্টারনেট অনেক প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনের সময় আমরা প্রযুক্তিগত সেই সুবিধা পাইনি।’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অগুণতি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। আমার তো মনে হয় অনেক ব্যবহার করলে ইন্টারনেট এমনিতেই স্লো হয়ে যায়। ইন্টারনেট বেশি ব্যবহারের কারণে গতি কমে গিয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মোহাম্মদ এ আরাফাত।















