ওয়ানবাংলানিউজ: দেশব্যাপী বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদের উপর হামলা, পুলিশী নির্যাতন গ্রেফতারের প্রতিবাদ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃস্টি, সুষ্ঠু নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল যুক্তরাজ্য শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিং ১৭ ডিসেম্বর সোমবার পূর্ব লন্ডনের নিডা হাউজে অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি রহিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন। এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের ইশারায় আদালত ও নির্বাচন কমিশনের চক্রান্তে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বহু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অনেক প্রার্থীকে জেলে প্রেরন করে নির্বাচনী পরিবেশ নস্ট করা হয়েছে যাতে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসে। তারা বলেন বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে। বিজয় নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবে। তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন মাঠে অবস্থান নেয়ার আহবান জানান।
এসময় তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঠিক নেতৃত্বে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আর ৫ই জানুয়ারীর মত নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠ ছাড়বে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবকে নির্বাচনী প্রচারনায় বাঁধা প্রদান এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মিথ্যা মামলায় জেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি আব্দুল হক রাজ, দেওয়ান আব্দুল বাসিত, বাকী বিল্লাহ জালাল, আক্তার আহমদ শাহীন, শাহজাহান আলম, শানুর মিয়া, কামাল আহমদ বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক বাবর চৌধুরী, নূরুল আলী রিপন, শেখ মনসুর আহমদ, সুহেদুল হাসান, মোজাহিদ আলী সুমন, আব্দুল ওয়াহিদ আলমগীর, সহ সাধারণ সম্পাদক একেএম মোফাজ্জল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমদ, মিয়া মোহাম্মদ জামিল, প্রচার সম্পাদক লোকমান হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, আরো উপস্থিত যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া, বেলাল আহমদ, আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ নিয়ামুল হক শামীম, মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, মাহমুদুর রহমান রিয়াজ, কাজী তাজ উদ্দিন আহমদ আকমল, মো: শাহজাহান, তানভীর চৌধুরী, সায়ফুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ চৌধুরী, ছয়ফুল আমিন হেলাল, মো: মরম আলী, আবুল কালাম আজাদ, আরিফ ময়নুল হোসেন, ফয়জুর রহমান জালাল, নেছার মিয়া, সামছুল ইসলাম, হাসান আহমদ, আজাদ আহমদ, আকতার আহমদ।
প্রেসব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে যা বলা হয়,
আপনারা সবাই জানেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু খুই দু:খের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী পুলিশ তথা আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না জাতীয় নেতারা। ইতিমধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, মির্জা আব্বাসসহ অসংখ্য সিনিয়র নেতাদের উপর হামলা হয়েছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নামে ইলেকশন কমিশনের সরকারের পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরন জাতীকে হতাশ করেছে। আজকের এই জরুরী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ সৃস্টি করতে সেনা মোতায়নের দাবী জানাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন
আপনারা জানেন সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় বন্ধী রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মানুষের প্রানপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং আওয়ামী হানাদারদের কবল থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সারাদেশে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ। এই অবৈধ সরকার আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে হামলা গ্রেফতার বাড়িয়ে দিয়েছে। টিকে থাকার জন্য শেষ মরনকামড় দিচ্ছে এখন। আমরা তার দ্রুত মুক্তি দাবী করছি। এব্যাপারে বিশ্ব নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বন্ধুরা,
আপনারা জানেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাস্ট্র নায়ক, তারুন্যের অহংকার বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা সাজানো মামলায় রায় দেয়া হয়েছে। তাকে দেশে ফিরতে নানানভাবে বাঁধার সৃস্টি করা হচ্ছে। আমরা জাতীয়তাবাদী যুবদল যুক্তরাজ শাখা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী করছি।
সাংবাদিক বন্ধুরা
সারাদেশে আওয়াজ উঠেছে নৌকাডুবির। এখন পতনের ক্ষণগননা চলছে। তাই পলায়নপর সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২৩ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরই চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছে ক্ষমতা এবার হাতছাড়া হয়ে যাবে।
সারাদেশে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে মহড়া দিচ্ছে। এসব অপরাধের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ কর্মকর্তারা মিথ্যা মামলা দায়ের ও গণগ্রেফতারের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রেফতারের নামে মানুষকে পণ্য বানিয়ে বানিজ্য করছে পুলিশ। বিনা কারণে পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে। নতুন নতুন মামলায় বিস্ফোরক ও মাদক দিয়ে কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এসব জানিয়ে কোন লাভ হচ্ছে না। পুলিশ নির্বাচন কমিশনের কোনো কথা শুনছে না বা নির্বাচন কমিশন তাদের স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না। আওয়ামী লীগের সব কন্ট্রোল রম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন গণগ্রেফতার বন্ধ করতে বললেও পুলিশ এসব আমলে নিচ্ছে না। প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন একাকার। পুলিশ, সরকারি অফিসার ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপি ও ফ্রন্টের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন। রিটার্নিং অফিসাররা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় তৈরী করছেন না।
পুলিশের প্রতি আমাদের অনুরোধ, নির্বাচনী হাওয়া কাদের অনুকুলে বইছে সেটি উপলদ্ধি করতে চেষ্টা করুন। আপনারে সরকারের কথা বিশ্বাস করে জনগণের প্রতিপক্ষ হবেন না। জনগণের পক্ষে দাঁড়ান। দু:শাসনের অবসানের জন্য আপনারাও অবদান রাখুন।
সংবাদিকবন্ধুগন,
আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এসকল হামলা মামলা বন্ধ না হলে জাতীয়তাবাদী যুবদল বিশ্বজনমত গঠনে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান কমিশন, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন সংস্থায় সরকারের এই অপকর্মতুলে ধরবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নিয়মিত কর্মসূচির পালন করবে এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের যেকোন মন্ত্রী, এমপি, প্রধানমন্ত্রী আসলে তাদের অবাঞ্চিত ঘোষণাসহ তাদের প্রতিরোধ করতে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
সর্বশেষে আপনাদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।















