ওয়ানবাংলানিউজ: কমিউনিটির বয়োবৃদ্ধ, শারীরিক ও মানসিক ভাবে পিছিয়ে পড়া যুব সমাজ ও শিশু- কিশোরদের সেবার মানসে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আপাসেন (আপাসেন্থ) টাওয়ার হামলেট থেকে হোম কেয়ার দিয়ে পথ চলা শুরু করে। হাটি হাটি পা পা করে হেকনী, রেড ব্রীজ ও ইউকের অন্যান্য বারায় হোম কেয়ার ও ডে-কেয়ার সেবা প্রদান করে ইউকের অন্যতম সার্ভিস প্রভাইডারের গৌরব অর্জন করেছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সেবার পরিধি বাংলাদেশে বিস্তৃত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অবদান রেখে চলেছে। আপাসেন এর এই অর্জনের পিছনে যে ওয়ার্ক ফোর্সের হাত রযেছে তাদের সন্মানে গত ১লা নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাচটায় পুর্ব লন্ডনের আর্টিয়াম সেন্টারে আয়োজন করল এক বিশাল কেয়ার কনফারেন্স ও এন্যুযেল ডিনারের। চার শতাধিক কেয়ারার ও বিশিষ্ট জনের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত উক্ত কনফারেন্সে ছিলো বর্ষসেরা ৪ কেয়ারারকে এওয়ার্ড প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ।
বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের প্রেজেন্টার নাদিয়া আলীর উপস্থাপনায় আয়োজিত উক্ত কনফারেন্সে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আপাসেন চেয়ারম্যান আমির হোসেন, সংস্থার চীফ এক্সিকিউটিভ মাহমুদ হাসান এমবিই, টাওয়ার হ্যামলেটস-এর নির্বাহী মেয়র জন বিগস, গ্রেটার লন্ডন এসেম্বলীর সদস্য উমেশ দেশাই, আপাসেন ইন্টারন্যাশনালের ট্রাষ্টি প্রফেসর সেডরিক বেল, ইউকে হোম কেয়ার এসোসিয়েশনের মার্কেটিং ডাইরেক্টর এন্ড্রু হেফারম্যান, আপাসেন হোম এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস প্রধান শোয়েব আহমেদ, কেয়ার ডেভোলাপমেন্ট ম্যানেজার হাবিবুর রহমান কবির ও রেসিডেন্সিয়েল রেসপাইট কেয়ারের রেজিষ্ট্রার্ড ম্যানেজার পামেলা বনি, সার্ভিস ইউজার মমতা বেগম, কেয়ার ওয়ার্কার ট্রেসি এন সাপিয়ানো প্রমূখ।

অাপাসেন এর চীফ এক্সিকিউটিভ মাহমুদ হাসান এমবিই প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাস ও চলমান কর্মকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন কনফারেন্সে। আপাসেন প্রকাশনা ‘এ ব্রিফ গাইড টু হেলথ এন্ড সোস্যাল কেয়ার’ এবং বাংলাদেশসহ ব্রিটেনের বাইরে সংস্থাটির কর্মকান্ডের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন তিনি তাঁর বক্তৃতায়। বিশেষত আগামী সেপ্টেম্বরে সিলেটে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল ও ডে-সেন্টার চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমপি রোশনারা আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আপাসেন-এর সেবা কমিউনিটির শারিরীক ও মানষিকভাবে দুর্বল মানুষগুলোর আত্মবিশ্বাস ঠিকিয়ে রাখছে, সমাজে বৈষম্যহীন কমিউনিটি চেতনায় শান দিচ্ছে অব্যাহতভাবে, এটি ব্রিটিশ ওয়েলফেয়ার সিস্টেমের গর্বিত ঐতিহ্যেরই অংশ। নিজ এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসে এমন একটি সেবা সংস্থার মূল ভিত্তি হওয়ায় নিজের গর্বিত অনুভূতির কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই ঐতিহ্য ঠিকিয়ে রেখে তা আরও সমৃদ্ধ করতে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় প্রশাসন, পার্লামেন্ট সদস্য, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট সংকোচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় এমপি রোশনারা বলেন, সামাজিক সেবা খাতে বাজেট সংকোচনের যেকোন উদ্যোগ কমিউনিটির দুর্বল অংশের মধ্যে বৈষম্য আতঙ্ক সৃষ্টি করবে, এটি বুঝতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। তিনি আপাসেন-এর ভবিষ্যত সাফল্যও দেখতে চান এমন প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন তাঁর বক্তৃতায়।
মেয়র জন বিগস বলেন কেয়ারারদের স্বার্থে ইতিমধ্যে টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল লন্ডন লিভিং ওয়েজেস, এথিকেল কেয়ার চার্টার স্বাক্ষর সহ অন্যান্য যৌক্তিক দাবী পুরনে কাজ করে চলেছে। তিনি আপাসেন-এর সাথে কাউন্সিলের সহযোগীতা সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বৈষম্যহীন সেবা পাওয়ার অধিকার সবার, এই অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে আপাসেন। আপাসেন-এর সেবা প্রদানের দীর্ঘ পথচলায় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পাশে ছিলো, ভবিষ্যতেও থাকবে এমন মন্তব্য করে মেয়র বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট সংকোচন মোকাবিলা করেই কাউন্সিল সেবা খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আপাসেন এর ৪ জন কেয়ার ওয়ার্কার ও একজন ভলান্টিয়ারকে তাদের দীর্ঘ সেবা প্রদানের স্বীকৃতির সম্মাননা জানিয়ে তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন কনফারেন্সের অতিথিবৃন্দ।

কনফারেন্সে আরো ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব, এতে কেয়ার এজেন্সি ও কেয়ার ওয়ার্কার সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রোশনারা আলী এমপি, মেয়র জন বিগস, মাহমুদ হাসান এমবিই ও ইউকে হোম কেয়ার এসোসিয়েশনের মার্কেটিং ডাইরেক্টর এন্ড্রু হেফারম্যান প্রমূখ। সব শেষে উপস্থিত সার্ভিস প্রভাইডার, সার্ভিস ইউজার, রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।















