আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই জাতিসংঘের। তাই তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো থেকে বিরত থাকা উচিত। জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষনা দেয়ার এক সপ্তাহ পর এই প্রতিক্রিয়া জানালেন দেশটির সেনা প্রধান মিন অং হ্লাং।
গত রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সেনাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় এ কথা বলেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাং। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্যরা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি মিয়ানমারের উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার করার আহ্বান জানানোর পর এটি তার প্রথম প্রতিক্রিয়া।
এ সময় তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কোনো রাষ্ট্র, সংস্থা কিংবা কোনো গোষ্ঠীর নেই। এ ধরনের হস্তক্ষেপ কেবল ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করবে।’
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সেনাদের দমন পীড়ণ নিয়ে ৪৪৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করেছে জাতিসংঘের ওই সংস্থাটি। দেশটির রাখাইন অঞ্চলে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া ওই সেনা অভিযান থেকে বাঁচতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দু দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পরও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি মিয়ানমার সরকার।
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গা নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। এ নিয়ে মিয়ানমার সেনাদের বিচারের আওতায় আনতে তৎপর হয়েছে আর্তর্জাতিক অপরাধ আদালত(আইসিসি)। তবে মিয়ানমার বলছে, যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সনদে স্বাক্ষর করেনি মিয়ানমার।তাই তাদের বিচার করার কোনো এখতিয়ার নাই ওই আদালতের।
তবে মিয়ানমারের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে আইসিসি। তারা বলেছে, যেহেতু বিরোধের অন্য পক্ষ বাংলাদেশ এ সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই বিচারে কোনো বাধা নেই। মিয়ানমার সেনাদের ওপর ইতিমধ্যে প্রাথমিক তদন্তও শুরু করেছে ওই আদালত।
নিয়ম হচ্ছে, সনদে স্বাক্ষর না করা দেশকে বিচারের আওতায় আনতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের প্রয়োজন হয়। তবে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির পক্ষ থেকে।
রোহিঙ্গা নিধনের জের ধরে এর আগে গত মাসে ফেসবুক থেকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের ফেসবুক পেইজ মুছে ফেলা হয়েছে।















