ঢাকা সংবাদদাতা: খালেদা জিয়া সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক মুলতবির আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।
আজ(সোমবার) রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপতি ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ আবেদন করা হয়।
জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
আবেদনে উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাকে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাই খালেদা জিয়া সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক।
এ সময় খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধির আরেকটি আবেদনও করা হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে খালেদা জিয়াকে জেল কোড অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এবং জানিম বৃদ্ধি করেন।
এদিকে এ মামলার অপর আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার জামিন বাতিল করেছেন আদালত। আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন মুন্না ও অপর আসামি মনিরুল। আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানি মুলতবি করার জন্যও আবেদন করেন তিনি।
তখন অস্থায়ী জামিনে থাকা মুন্নার জামিন বাতিল করেন আদালত। তবে মনিরুল ইসলাম খান স্থায়ী জামিনে থাকায় তার জামিন বহাল থাকে।
এছাড়া মুন্না ও মনিরুলের অনাস্থা বিষয়ে আদেশ এবং পরবর্তী যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটি এর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার। এরপর থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে তাকে।















