বিয়ে মেনে নিতে না পেরে দুলাভাইকে হত্যা

946

ঢাকা সংবাদদাতা: দূরসম্পর্কের ফুপুকে বিয়ে করায় জামালপুর সদর উপজেলায় এক যুবককে হত্যা করেছে তার শ্যালক। গতকাল শুক্রবার রাত একটার দিকে উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের লাহাড়িকান্দা এলাকার নবাবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত যুবকের শ্যালক থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

নিহত ব্যক্তির নাম মাহজারুল ইসলাম (৩৫)। তিনি নবাবপুর গ্রামের আবু তাহের তালুকদারের ছেলে। গ্রেপ্তার হওয়া শ্যালকের নাম খালিদ হাসান চৌধুরী (২৫)। তিনি একই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, খালিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খালিদ হাসানের বড় বোনের সঙ্গে মাহজারুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের সম্পর্কটা ছিল ফুপু-ভাতিজার। দুই পরিবারের কেউ তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। তিন বছর আগে তারা দুজনে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু বিষয়টি খালিদ হাসান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। ঈদে মাহজারুল ইসলাম বাড়িতে আসেন। গতকাল শুক্রবার রাতে একই গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়েতে মাহজারুল অংশ নেন। ওই বিয়েতে খালিদ হাসানও যোগ নেন। । এ সময় খালিদ হাসান গিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিকে দুলাভাইকে কোপানোর পর রাতেই নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে গিয়ে খালিদ হাসান আত্মসমর্পণ করেন। তিনি এখন নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে রয়েছেন।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিমুল ইসলাম বলেন, বিয়ের আগে খালিদের বোন ছিলেন নিহত মাহজারুলের ফুপু। তবে আপন ফুপু ছিলেন না। এই দুজনের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি খালিদ। ওই ক্ষোভ থেকেই মাহজারুলকে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ ঘটনায় মাহজারুলের বড় ভাই সেলিম তালুকদার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।