ওয়ানবাংলানিউজ: হাউজিং জালিয়াতির দায়ে জেলদন্ড ভোগকারী টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলার শাহেদ আলীকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড ফেরত দিতে অথবা আবার কারাগারে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ অনুযায়ী তাকে ১শ ১০ হাজার পাউন্ড টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও সরকারকে ফেরত দিতে হবে, যা হাউজিং ফ্রড বা জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি কামিয়েছিলেন। এছাড়া মামলার খরচ বাবদ কাউন্সিলকে ৭০ হাজার পাউন্ড পরিশোধেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে সাবেক কাউন্সিলার শাহেদ আলী তার কোন বাড়ী না থাকার কারনে আত্মীয় স্বজনের বাসায় সোফায় ঘুমাতে হচ্চেছ বলে উল্লেখ করে সোশ্যাল হাউজিংয়ের জন্য আবেদন করেন।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তার নামে ব্রিক লেনের কাছে ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রিটে ১ বেডরুমের একটি কাউন্সিল ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়। অথচ ঐ সময়ে তার মালিকানায় টাওয়ার হ্যামলেটসেই দুটি বাড়ী ছিলো। ম্যানচেষ্টার রোডে (ই১৪) একটি প্রাইভেট প্রোপার্টির তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি এবং যে ওয়ার্ড থেকে তিনি কাউন্সিলার হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, সেই হোয়াইটচ্যাপল ওয়ার্ডের ক্যানন স্ট্রিটে অবস্থিত একটি প্রোপার্টিও তার ভোগ দখলে ছিলো।
এরপর তিনি যখন তার নামে বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটের কাউন্সিল ট্যাক্স এর ক্ষেত্রে সিঙ্গল পার্সন ডিসকাউন্ট চেয়ে আবেদন করেন তখনই তা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সন্দেহ হয়। কারন একই সময় তিনি আরেকটি প্রোপার্টির কাউন্সিল ট্যাক্সের জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। এরপর কাউন্সিলের অডিট এন্ড কাউন্টার ফ্রড টিম অনুসন্ধানে নামে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য উ্স থেকে পাওয়া যাবতীয় রেকর্ডপত্র পরীক্ষা করে দেখে। এই তদন্ত কাজে অভিজ্ঞ সোশ্যাল হাউজিং ফ্রড স্পেশালিস্টরা নেতৃত্ব দেন। তদন্তে দেখা যায় যে, শাহেদ আলী শুধু টাওয়ার হ্যামলেটসেই দুটি প্রাইভেট প্রোপার্টির মালিকই নন, ফ্রিনটন অন সী নামক স্থানেও তার আরো দুম্বটি প্রোপার্টি রয়েছে, যার নীচের তলায় রয়েছে একটি কারী হাউস। তদন্ত কার্যক্রম শেষে শাহেদ আলীর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে থেকে ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময়কালে দুটি আবাসিক প্রোপার্টির মালিকানা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ স্বীকার করে নিলে পরবর্তীতে আদালত তাকে ৫ মাসের জেলদন্ডে দন্ডিত করে। একই সাথে তাকে কাউন্সিলার পদে অযোগ্য এবং এই পদে পুনারায় দাঁড়াতে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চীফ এক্সিকিউটিভ, উইল টাকলি এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষ্ময়কর এক জালিয়াতির ঘটনা এটি। আমাদের তদন্ত ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট। কারণ এক্ষেত্রে শুধু অপরাধীর শাস্তিই নিশ্চিত হয়নি, জনগণের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হতে যাচ্চেছ। তিনি বলেন, বেনিফিট ও কাউন্সিল হাউজিং আমাদের সমাজের সবচেয়ে অসহায় বাসিন্দাদের সাহায্যের জন্য।
প্রতারকদের এটা ভালোভাবে জানা থাকা দরকার যে, আমাদের বিশেষজ্ঞ তদন্তকারীরা প্রতিদিন ফাইলগুলো নীরিক্ষা করে থাকেন এবং কারো বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করি না। তিনি জানান গত বছর কাউন্সিল ভূয়া দাবিকারী কিংবা অবৈধভাবে সাব-লেটিং প্রদানকারীদের কাছ থেকে মোট ৫৪টি সোশ্যাল হাউজিং প্রোপার্টি উদ্ধার করেছে।
এ প্রসঙ্গে মেয়র জন বিগস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কতৃক এধরনের কাজ খুবই লজ্জাজনক। তিনি শুধু করদাতাদের সাথেই প্রতারনা করেননি, তিনি একটি পরিবারকে বাড়ী পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। অর্থাত টাওয়ার হ্যামলেটসে বাড়ীর জন্য অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার পরিবারের একটিকে তিনি প্রতারনা করে বঞ্চিত করেছেন। মেয়র বলেন, এই বিষয়টি এজাতীয় প্রতারনার সাথে জড়িতদের জন্য একটি পরিষ্কার সতর্ক বার্তা।















