সুনামগঞ্জে আ’লীগ নেতার দাপটে অবরুদ্ধ ২৫ পরিবার

515

সিলেট সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের ছাতকে কালারুকা ইউপির গর্ন্ধভপুর এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কদর মিয়ার দাপটে দিনমুজর আব্দুস সালামসহ ২৫টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

তাদেরকে মারধর করে গত ছয়দিন ধরে চারিদিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরবিারগুলো।

কদর মিয়ার ভয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এছাড়াও তারা যাতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেজন্য তাদের মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলা হয়।

ওইসব পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ মে সরকারি রাস্তায় চলাচল করা নিয়ে কদর মিয়ার নির্দেশে দিনমজুর আব্দুল হক ও আব্দুস সালামের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে কদর মিয়ার লোকজন।

এ সময় মৃত সতই মিয়ার স্ত্রী আনেলা বেগম ও খয়রুন্নেছা বাধা দিলে তারা তাদেরকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় কদর মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নামে আব্দুস সালাম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদির পরিবারসহ ২৫টি বাড়িঘর ঘেরাও করেন আসামীরা।

এ ঘটনাটি আনেলা বেগম মোবাইল ফোনে তার ভাইকে জানাতে গেলে কদর মিয়া মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য শাসিয়ে যান তিনি।

এরপর থেকে ওই ২৫টি পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবযাপন করছে।

এ ঘটনা শুনে বোরবার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে আশেপাশের লোকজন এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন আব্দুস সালামের পরিবারের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে মামলার বাদি আব্দুস সালাম জানান, চরম নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কদর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদেরকে আমরা অবরুদ্ধ করিনি। তারা ভয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি কেউ তাদের জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।