নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন: জাকির

854

নিজস্ব প্রতিবদেক: ফেসবুকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

গত ১১ ও ১২ মে জাতীয় সম্মেলনে সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সমঝোতায় কমিটি করতে পারেনি ছাত্রলীগ। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন কাউন্সিল অধিবেশনের বৈঠকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করে সেখান থেকে নেতৃত্ব বাছাই করতে শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে নেতা নির্বাচনের আগে পদপ্রত্যাশী সবাইকে গণভবনে ডেকে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শেখ হাসিনা। চলতি সপ্তাহেই তাদেরকে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এরপর থেকে ফেসবুকে এই তালিকায় থাকা বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকি কোনো পদপ্রত্যাশীর পূর্বপুরুষ মুক্তিযোদ্ধা হলেও তাদেরকে স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে প্রচার চালানো হচ্ছে।

এমন প্রচারে বিরক্তি প্রকাশ করে জাকির ফেসবুকে লিখেন, ‘সাম্প্রতিক কালে অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আমাদের নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি থেকে একে অন্যের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছি। যা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।’

‘এই নগ্ন কাদা ছোড়াছুড়িতে যতটুকু না লাভ হচ্ছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতি হচ্ছে আমাদের নিজেদের তথা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। এসবের ফলে ব্যক্তির সম্মানহানি তো হচ্ছেই, সঙ্গে পরিবারেরও দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মানের হানি ঘটছে।’

‘আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এই সব নোংরা কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন। তবে আপনাদের যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও যথাযথ তথ্যপ্রমাণ থাকে তাহলে তা যেকোনো মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপন করুন।’

‘আমি শতভাগ নিশ্চিত, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে তিনি আপনাদের নিরাশ করবেন না। অন্তত দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর আস্থাটুকু রেখে আত্মঘাতী সমালোচনা থেকে সরে এসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজহাতে গড়া অতি আদরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করুন।’

এক লেখনীতে যে ছাত্রলীগেরই ক্ষতি হচ্ছে, সেই বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধও করেন জাকির। বলেন, ‘একটা স্ট্যাটাসের জন্য হয়তবা আপনি সাময়িকভাবে কিঞ্চিৎ লাভবান কিংবা বিকৃত মানসিক শান্তি পেতে পারেন। কিন্তু আপনার জন্য আমাদের অনেকের-ই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’