যুক্তরাজ্য প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে না পেরেই নবীগঞ্জের জোড়া খুন

2379

সিলেট সংবাদদাতা: যুক্তরাজ্য প্রবাসীর স্ত্রী রুমী বেগমকে ধর্ষণ করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন গ্রেপ্তার দুই আসামি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা জাহানের আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেন আসামি তালেব মিয়া এবং জাকারিয়া আহমেদ শুভ। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান হবিগঞ্জের সুপার বিধান ত্রিপুরা।

গত রোববার রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন লন্ডন প্রবাসীর মা মালা বেগম ও স্ত্রী রুমি বেগম। এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত রুমির ভাই ডা. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে নবীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত হাবিবুর রহমানকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা বলেন, গৃহবধূ রুমিকে ধর্ষণ করাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রুমির স্বামী আখলাক চৌধুরী লন্ডনে থাকেন। যে বাড়িতে রুমি এবং তার শাশুড়ি মালা বেগম বসবাস করতেন সেটির কোনো সীমানা প্রাচীর ছিল না। পাশে কোনো প্রতিবেশীরাও বসবাস করতেন না।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, কয়েকদিন আগে আখলাক চৌধুরী তার স্ত্রীর জন্য একটি মোবাইলের কাভার কিনে দিতে বলেন বন্ধু রিপনকে। কিন্তু রিপন ব্যস্ত থাকায় গত ১১ মে তার ভাই জয়কে দিয়ে এই কাভার রুমির বাড়িতে পাঠান। মোবাইল কাভার নিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকার জাকারিয়া শুভ নামে এক বখাটের সঙ্গে জয়ের পরিচয় হয়। তখন জয়ের সঙ্গে বখাটে শুভও রুমিদের বাড়িতে যায়। এ সময় রুমিকে দেখে শুভ তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।

এরপর রোববার সাড়ে ১০টায় তালেব মিয়া নামে এক শ্রমিককে নিয়ে রুমিদের বাড়িতে যায় শুভ। প্রথমে তালেব মিয়া মালা বেগমকে দাদি সম্বোধন করে ডাক দেয় এবং গেইট খুলতে বলে। গেইট খোলার পর তালেব মিয়ার সঙ্গে শুভও বাড়ির ভেতরে যায়।

এসময় মালা বেগম ওই ছেলের পরিচয় জানতে চাইলে শুভ মালাকে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করে। মালা দৌড় দিলে তারা দুইজন মিলে তাকে ওড়না দিয়ে বেধে ফেলে এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। মালা চিৎকার শুনে রুমিও চিৎকার শুরু করেন। এ সময় শুভ রুমিকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ঘটনার সময় ওই বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মিটিং ছিল। সেখান থেকে চিৎকার শুনে লোকজন এসে মৃতদেহ দুটি দেখতে পান।