অান্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাসায় ১৬ মে বুধবার রাতে এবং ১৭মে বৃহস্পতিবার সকালে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় তারা নাজিবের হ্যান্ডব্যাগ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জব্দ করে। অর্থ পাচার কেলেঙ্কারির তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ এ তল্লাশি চালিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নাজিবের আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে নাজিব নামাজ শেষে বাসায় ফিরলে একদল সশস্ত্র পুলিশ নাজিবের বাসভবনে তল্লাশি চালায়।
মালয়েশিয়ান পুলিশের ব্যবসায়িক অপরাধ তদন্ত দলের পরিচালক অমর সিং রয়টার্সকে জানান, অর্থ তছরুপের অভিযোগে নাজিব রাজাকের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তবে তিনি আর কোনো বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে মালয়েশিয়ান স্থানীয় পত্রিকা স্টার’র বরাতে জানা যায়, বাসভবন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অফিস, আনুষ্ঠানিক বাসভবন, কুয়ালালামপুরের দুইটি ভিন্ন ভিন্ন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টেও তল্লাশি চালানো হয়।
প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে পুলিশ তল্লাশি চলে। এতে দেখা যায়, কর্মকর্তা নাজিবের বাসা থেকে বড় বড় ব্যাগ বের করে ট্রাকে নেয়া হচ্ছে।
নাজিবের আইনজীবী হার্পাল সিং গ্রেভাল সাংবাদিকদের জানান, অর্থ পাচার আইনে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে পুলিশ অপরাধ সংশ্লিষ্ট কিছু খুঁজে পায়নি। মানিব্যাগসহ নাজিবের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কিছু জিনিসপত্র পুলিশ নিয়ে গিয়েছে। তবে এটা সিরিয়াস কিছু না। মাত্র ২-৩ টি বক্স মাত্র, জানান হার্পাল সিং।
২০০৯ সালে নাজিব রাজাক ওয়ানএমডিবি প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার নাজিব রাজাকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাও সে সময় জানায়, সাতশ মিলিয়ন ডলার অর্থ দাতারা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংক হিসেবে জমা করেছে। এর সঙ্গে ওয়ানএমডিবির কোনো সম্পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, ১০ মে (বৃহস্পতিবার) শপথের মধ্যে দিয়ে মাহাথির মোহাম্মদ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বয়সী নির্বাচিত নেতা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। শপথ নেয়ার দুই দিন পরেই (১২ মে) নাজিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাহাথিরের প্রশাসন।















