কতদিন টিকবেন থেরেসা মে

2057

ওয়ানবাংলানিউজ: কোনোমতে ক্ষমতার রশি ধরে ঝুলে আছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। নির্বাচনী জুয়ায় হেরে গিয়ে তিনি এখন নিজ দল কনজারভেটিভ এমপিদের তোপের মুখে। তারা বলছেন, তেরেসা মে’র নতুন সরকারকে বিদায় নিতে হবে ৬ মাসের মধ্যে। এতে তার নতুন সরকার কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। কেউ বলছেন, তার এ সরকার হবে ব্রেক্সিট সমঝোতার জন্য ব্রেক্সিট বিষয়ক অন্তর্বর্তী সরকার। তা হবে প্রচণ্ড রকম দুর্বল। ফলে তেরেসা মে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগে তাকে খোঁচা মেরেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। তেরেসা মে’কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, আমরা প্রস্তুত। দ্রুত ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু করুন। সমালোচনা শুরু হয়েছে দলের ভিতরে। নিজ দল কনজারভেটিভ সদস্য, এমপিরা প্রকাশ্যে তেরেসা মে’র সমালোচনা শুরু করেছেন। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তো তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন। ব্রেক্সিট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর জন্য তার হাতে আর সময় আছে স্রেফ এক সপ্তাহ। ১৯শে মে এ আলোচনা শুরু করার কথা। ফলে তেরেসা মে’র ওপর এখন চতুর্মুখী চাপ। তিনি এখন কোনদিক সামলাবেন! চারদিকে এলোমেলো পরিস্থিতি। সবই যেন তার প্রতিকূলে যাচ্ছে। দলীয় এমপিরা বলছেন, তিনি অযথাই রাজনীতির জুয়া খেলতে গিয়েছেন। তার ফল হয়েছে হিতে বিপরীত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্কাই নিউজ।

এতে বলা হয়েছে, হাউস অব কমন্সে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ অনেক কনজারভেটিভ সদস্যও। এ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী মে ও তার ঘনিষ্ঠ চক্রকে দায়ী করছেন। তিনি কোনমতে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য অখ্যাত একটি রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) ওপর ভর করছেন, যারা কিনা সমকামী বিয়ের বিরোধী। এ কারণে অনেক কনজারভেটিভ সদস্য অসন্তুষ্ট। এক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে এসেছেন স্কটল্যান্ডে কনজারভেটিভ দলের নেতা রুথ ডেভিডসন। তিনি টুইটারে এরই মধ্যে তিনি তেরেসা মের বিরোধিতার কথা জানান দিয়েছেন। গত বছর তিনি সমকামী ইস্যুতে একটি লেকচার দিয়েছিলেন। সেই লেকচার তিনি টুইটে যোগ করেছেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে ফোন করেছিলেন। ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি বিষয়ে নিশ্চয়তা চেয়েছেন। তাহলো, হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে ডিইউপির ওপর ভর করার মাধ্যমে তিনি সমকামীদের অধিকারের পক্ষে যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে কনজারভেটিভদের, তা খর্ব করবেন না।

অনেক এমপির মতে, চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ডকে নতুন করে নিয়োগ করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে নতুন করে দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নেয়া হয়েছে বলে অনেকের অভিমত। এক্ষেত্রে এমপিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহ্বান জানান। অনুগত অ্যাম্বার রাড, ডেভিড ডেভিস এবং স্যার মাইকেল ফ্যালন চুপচাপ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে যখন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের ভিতর অবস্থান করছেন তখন বলা হলো তিনি পরাজিত দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। আর তা জানা দেবেন কনজারভেটিভ দলের ব্যাকবেঞ্চ ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যান গ্রাহাম ব্রাডি। এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফলে দেখা যাচ্ছে আমাকে তাই করতে হবে, যাতে দল ভবিষ্যতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। যেসব প্রার্থী, পরিশ্রমী দলীয় নেতাকর্মী সফল হতে পারেননি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। বিশেষ করে দুঃখ প্রকাশ করছি সেইসব সহকর্মীর প্রতি যারা এমপি বা মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নির্বাচনে আসন হারিয়েছেন। তাদের আসলে আসন হারানোর কথা নয়।

কনজারভেটিভ দলের এমপি হিদি অ্যালেন পূর্বাভাস দিলেন, প্রধানমন্ত্রী ৬ মাস সময় পাবেন। দলের অন্য এমপিরা বলেছেন, আগামী শরতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদায় বার্তা বাজবে। বিশেষ করে সারাহ ওয়ালস্টেন, আন্না সোব্রি ও নিকি মরগান তো প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বানই জানিয়েছেন। নিকি মরগান তো বলেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে বিদায় নিতে হবে। কারণ, তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। দলীয় এমপিরা যখন এমন অবস্থান নিয়েছেন তখন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বাইরে বের হয়েছেন পিছনের দরজা দিয়ে। কিন্তু তিনি ওইসব এমপির কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারেননি, যারা এখন তার মুখোমুখি হবেন। বৃহস্পতিবার বৃটেনজুড়ে পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে মধ্য লন্ডনে কেনসিংটন আসনের দখল পেয়েছে বিরোধী লেবার দল। এ আসনের ভোট পর পর তিনবার গণনা করা হয়েছে। সেখানে মাত্র ২০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন লেবার দলের এমা ডেন্ট কোড। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কনজারভেটিভ দলের ভিক্টোরিয়া বোরউইক। ডেন্ট কোড পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৩৩ ভোট। ভিক্টোরিয়া পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩১৩ ভোট। এর ফলে চূড়ান্ত হিসাবে ৬৫০ আসনের হাউস অব কমন্সে কনজারভেটিভরা পেয়েছে ৩১৮ আসন। লেবার ২৬২ আসন।