এসএসসিতে ফেল করে ২৯ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা; ৯ জনের মৃত্যু

1042

ঢাকা সংবাদদাতা: এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে না পারা ও খারাপ ফল করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৯ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এছাড়া আত্মহত্যা মৃত্যুবরণ করেছে ৯ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি।

যশোর : ঝিকরগাছায় এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় শান্তা ইসলাম (১৭) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রোববার বিকেলে যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসদরের কৃষ্ণনগর (খালপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শান্তা ইসলাম ওই গ্রামের ভ্যানচালক জামালউদ্দিনের মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, শান্তা ঝিকরগাছা সম্মিলনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। রোববার দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর সে পাস করতে পারেনি বলে জানতে পারে। পরে বাড়িতে এসে নিজের ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়া যশোর বোর্ডের আট শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এরমধ্যে দুই জন ছাত্র ও ছয়জন ছাত্রী। রোববার দুপুরে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এদিন বিকালে ও সন্ধ্যায় তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষার্থীরা হলো যশোর সদরের তীরেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), নিউ টাউন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুরাইয়া পারভীন (১৫), ভাতুড়িয়া গ্রামের ভাতুড়িয়া স্কুলের ছাত্রী মৌমিতা (১৫), নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (১৫), দানবীন হাজী মুহম্মদ মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মনিরা খাতুন (১৭), সুলতানপুর নুরুল ইসলাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী আফসানা খাতুন (১৫), প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মহাসিনা পারভীন (১৫) ও মণিরামপুরের কুয়াদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ইমন হোসেন (১৫)।

এদের মধ্যে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ইমন, মৌমিতা ও মনিরা খাতুনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুর রশিদ।

রংপুর :এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের রোকেয়া বেগম নামে এসএসসি পরীক্ষাথী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়াও আরো নয় ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন এদের মধ্যে চার জনের অবস্থা আশংকাজনক।

এদিকে রোববার ফলাফল ঘোষনার পর রোকায়া বেগম তার বাড়িতে বিষপান করে। আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে সে মারা যায়।

এছাড়াও আশংকাজনক অবস্থায় নগরীর উত্তম বখতিয়ার পুর হাজিরহাট এলাকার শহিদুল ইসলাম মিন্টুর মেয়ে খাদিজা, দেওডোবা ডাঙ্গীরপার এলাকার রইচ উদ্দিনের মেয়ে শারমিন, গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি এলাকার তাইজিরুল ইসলামের মেয়ে তানজিনা, নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকার গণেশ রায়ের মেয়ে শিবা রানী, পীরগাছা চৌধুরানী এলাকার আব্দুস সালামের মেয়ে সমাপ্তি শহরের সেনপাড়া এলাকার অলক রায়ের মেয়ে প্রীতি রায়, নগরীর খেড়বাড়ি এলাকার বকুলের মেয়ে তাহেরা এবং পাকারমাথা এলাকার মঞ্জু মিয়ার মেয়ে লিলি আক্তার রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে সমাপ্তি ফাঁস দিয়ে এবং অন্যরা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

নাটোর :গুরুদাসপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করে ৪ শিক্ষার্থী কীটনাশক পান করেছে। নাদিরা, সজীর, মিঠু ও ছাব্বির নামের ওই চার শিক্ষার্থীকে গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মিঠু ও নাদিরার অবস্থা আশংকাজনক দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই চার শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাদিরা উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের বিন্যাবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে ও বগুড়া জেলার রানীরহাট কারিগরী স্কুল এ্যান্ড কলেজের, সজিব উপজেলার গাড়িষাপাড়া মহল্লার শামীমের ছেলে নাজিম উদ্দিন স্কুল এ্যান্ড কলেজের, মিঠু উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের খুবজীপুর গ্রামের ছোলাইমান আলীর ছেলে খুবজী উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং সাব্বির পৌরসদরের চাঁচকৈড় খলিফাপাড়া মহল্লার আলমাসের ছেলে।

ময়মনসিংহ :ফুলপুরে দাখিল পরীক্ষায় ফেল করায় রোববার দুপুরে মনি আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। উপজেলার আইটকান্দি ইউনিয়নের মারাদেওরা গ্রামের মঞ্জুরুল হকের মেয়ে মনি আক্তার স্থানীয় ইছবপুর দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। রোববার ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হয়েছে জানতে পেরে নিজ বসত ঘরে মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় চিরকুট লিখে রেখে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করে।

গোপালগঞ্জ :কোটালীপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃর্তকার্য হওয়ায় পূজা বাড়ৈ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। রোববার দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা জহরেরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পূজা বাড়ৈ কোটালীপাড়া উপজেলার জহরেরকান্দি গ্রামের সুবোধ চন্দ্র বাড়ৈর মেয়ে। সে এবছর পূর্ব কোটালীপাড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

রাজবাড়ী :কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের বানজানা গ্রামে দাখিল পরীক্ষায় ফেল করে হাসিব খান (১৭) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর সে নিজ বাড়ীর বসতঘরের মধ্যে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহত হাসিব খান বানজানা গ্রামের ইদ্রিস খানের ছেলে। সে আড়কান্দি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়।

পাবনা :রোববার ফরিদপুরে স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। আগপুংগলী গ্রামের সেলিম রেজার মেয়ে সুমাইয়া খাতুন এবার এস.এস.সি পরীক্ষায় বি গ্রেড পাওয়ায় অভিমান করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

পটুয়াখালী :কলাপাড়ায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় ফাহিমা আক্তার নামের এক পরীক্ষার্থী। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে পটুয়াখালীতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

পঞ্চগড় :দেবীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ায় বিথি রাণী নামে এক শিক্ষার্থী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিথী রাণা দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘি ইউনিয়নের প্রধানপাড়া এলাকার ধিরেন্দ্রনাথের মেয়ে। ফলাফল ঘোষণার পরই ঘটনাটি ঘটে। সে স্থানীয় কালিগঞ্জ সুকাতু প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

শরীয়তপু‌র :ডামুড্যা উপ‌জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় নাস‌রিন আক্তার (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বিষ খে‌য়ে আত্মহত্যা করেছে। রোববার বি‌কেল সা‌ড়ে ৪টার দি‌কে উপ‌জেলার ধানকা‌ঠি ইউনিয়‌নের বা‌হেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ‌নাসরিন ওই গ্রামের আনিছ হাওলাদা‌রের মেয়ে। সে স্থানীয় হো‌সে‌নিয়া দা‌খিল মাদরাসা থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

টাঙ্গাইল:চলতি বছরে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় টাঙ্গাইলে ৮ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে একজন ছাত্রী মারা যায়। রোববার রাতের বিভিন্ন সময়ে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় এ ঘটনায় ঘটেছে। এর মধ্যে নিহত শিমা খাতুন (১৭) পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজলার সানাহারা গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে।

এদিকে আত্মহত্যা চেষ্টাকারী শিক্ষার্থীরা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন ছাত্রী এবং ১ জন ছাত্র রয়েছে। এরা হলো- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঢালান শেখপুরের খোরশেদ মিয়ার মেয়ে মিনা আক্তার (১৭), ছেটকিবাড়ি এলাকার হাশমত আলীর মেয়ে হালিমা (১৬), পোড়াবাড়ি এলাকার আজহারুল ইসলামের মেয়ে অন্তরা (১৬), অলোয়াভবানী এলাকার হযরত আলীর মেয়ে রাখী (১৭), বাসাইল উপজেলার পৌলি গ্রামের নাসিরের ছেলে নাহিদ (১৭), বাসাইল উপজেলার কাউয়ালজানী এলাকার আতাহার আলীর মেয়ে বন্যা আক্তার (১৬) এবং ভূইঞাপুর উপজেলার নিকরাইল গ্রামের মোহাম্মদ হামিদুররের মেয়ে মিরা (১৭)।