মর্মান্তিক : লন্ডনে মৃত মাকে জড়িয়ে ধরে অনাহারে মারাগেল শিশুটি

3469

তানজিদা বাছিত: লন্ডনে হেকনীতে নিজেদের ফ্লাটে মায়ের লাশের পাশে থেকে অনাহারে মর্নিং সাইড স্কুলের ৪ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলের মৃত্যু হয়েছে। চাদ্রেক এম্বালা মুলো হেকনির মর্নিংসাইড স্কুলের ছাত্র ছিল । তার বয়স ছিল ৪ বছর। সে কথা বলতে পারতো না এবং প্রতিবন্ধী ছিল।

জানা যায়, গত বছরের ২০ অক্টোবর চাদ্রেক এম্বালা মুলোকে তার মা এস্থার একেলি মুলোর লাশের পাশে জরিয়ে ধরা অবস্থায় মৃত পাওয়া যায় তাদের ট্রিলনে এস্টেট এর পেরাগন রোডের ঘরে। তার লাশ মৃত্যুর ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর পাওয়া যায়।চাদ্রেক এম্বালা প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার মায়ের হঠাৎ করে মৃত্যুর খবর কারো কাছে পৌছাতে পারেনি।

চাদ্রেক এর প্রতিবেশী ৩৫ বছর বয়সের এক মহিলা গেজেটকে জানান, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছেন। তিনি প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে চাদ্রেক ও তার মায়ের কথা চিন্তা করেন। “এটি খুবই বেদনাদায়ক। “অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন। ইহা আমাকে অনেক দিন যাবত কষ্ট দিয়ে আসছে।

আমি যদি জানতাম, হয়তবা তাদের সাহায্য করতে পারতাম, আমারও একটি ছেলে আছে চাদ্রেক অন্য কোন কারণে নয়,সে ক্ষুধার্ত ছিল যার কারণে মৃত্যুববরণ করেছে। শুধুমাত্র পানি ও খাবারের জন্য। তিনি আরও জানান চাদ্রেক কখনো কথা বলতো না সবসময় তার মায়ের কাপড় ধরে পেছনে লুকিয়ে থাকতো। সে লেটার বক্স এর দিকেও কাউকে ডাকতে পারেনি। তিনি যোগ করলেন।

ঘরের জানালা খোলা ছিল কিন্তু প্রতিবেশীরা গন্ধ পেয়ে তা রান্নার গন্ধ ভেবে খেয়াল করেননি। একেথি মুলো কংগো থেকে এসেছিলেন এবং এক বছর ধরে এ ফ্লাটে বসবাস করে আসছিলেন। মর্নিংসাইড স্কুলের স্টাফ ৩০সেপ্টেম্বর থেকে চাদ্রেক্স স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় তার মায়ের সাথে দুইবার ঘরে গিয়েও যোগাযোগ করতে পারেনি। স্কুলে শুধু তার মায়ের নাম্বার থাকায় আর কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি স্কুল কতৃপক্ষ।

স্কুলের হেড জেনেট টেইলর বলেন,মর্নিংসাইড স্কুল এখন বাচ্ছাদের স্কুল থেকে মিসিং হওয়ার বিষয়ে অথরিটিস এর সাথে কাজ করছে এবং আরো স্কুল সমুহে এ ধরণের ঘটনা যেন না ঘটে তার প্রতি দৃষ্টি রাখত

ঘটে তার প্রতি দৃষ্টি রাখছে।চাদ্রেক এর দুঃখজনক মৃত্যুতে সবাই ভেঙগে পড়েছেন যারা তাকে চেনেন।তার মৃত্যু খুবই হৃদয়বিদারক, তিনি যোগ করলেন। মর্নিং সাইড স্কুল তাদের নিয়ম পরিবর্তন করেছে এবং বাচ্ছাদের ফাইলে তিনজন বয়স্কের ফোন নাম্বার রাখার নিয়ম করেছে এবং ফোনে না পেলে স্টাফদের বিলম্ব না করে ঘরে যাওয়ার যদি ঘরে যোগাযোগ না করতে পারে তাহলে তারা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন।

কিন্তু হাসেল বলেন,”ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস এর অন্নান্য স্কুলে এ সিস্টেম চালু করতে হবে যা অসম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে। চেয়ার অফ দ্যা সিটি এন্ড হেকনি সেইফগারডিং চিলড্রেন বোর্ড জিম গাম্বল, ডিএফই নির্দেশিকার আপডেট কলের জন্য টিম্পসন এর কাছে লিখেছেন।

গাম্বল বলেন,একটি জটিল ঘটনার পর্যালোচনা কাউন্সিল এলিগ্নস দ্বারা পরিচালিত করা হয়েছে উপস্থিতি বিষয়ক এবং সম্ভাব্য কল্যাণ বিষয়কের মধ্যে পার্থক্য করনারের দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে।মিনিস্টার অফ স্টেইট ভুলনেরেবল চিল্ড্রেন এবং পরিবারের জন্য এডওয়ার্ড টিমসন করনারের রিপোর্টের উত্তর ১৯জুনের মধ্যে অবশ্যই দিতে হবে।

এখন করনার “মেরি হেসেল” মিনিস্টার এর নিকট অপ্রত্যাশিত অনুপস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের মৃত্যু না হয় স্কুলে এ ধরণের নিয়ম ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।