ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন: আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব থাকবে

580

ঢাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ চারটি পদ হচ্ছে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার। গত কয়েকটি সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বে (কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) রাখা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল এবং ফরিদপুর অঞ্চল থেকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইজন নেতৃত্ব থাকে।

সেই হিসেবে যদি বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় এ দুটি অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব আসে তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আসবে অন্য এলাকাগুলো থেকে। এবারের সম্মেলনকে ঘিরে এই হিসেব ধরেই অগ্রসর হচ্ছেন প্রার্থীরা। সরাসরি মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, দুঃসময়ে সংগঠনের জন্য ত্যাগ-তিতীক্ষা আছে এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, এমন নেতাদের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আনার প্রচেষ্টা চলছে। যেসব এলাকা থেকে দীর্ঘদিন কেউ নেতৃত্বে আসেনি সেসব এলাকার প্রতি জোর দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে কারা আসছেন, এখন তা নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই ছাত্রলীগের শীর্ষ পদগুলোর জন্য নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। এছাড়া সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষ পদগুলো পেতে শুরু হয়েছে পদ প্রত্যাশীদের চেষ্টা-তদবির।

কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের আধিপত্য থাকায় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই এখন সম্মেলনের আমেজ বিরাজ করছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সম্মেলনকেন্দ্রীক আলাপ-আলোচনা। তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের বয়সসীমা এখনও নির্ধারণ হয়নি। গঠণতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বা শাখা পর্যায়ের নেতার বয়স ২৭ বছরের বেশি হতে পারবে না। তবে ২০০৬ সাল থেকে অলিখিতভাবে ২৯ বছর বয়সসীমা ধরা হচ্ছে। ফলে পদপ্রত্যাশীসহ ছাত্রলীগের সবাই বয়সসীমা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন। সবাই চান ছাত্রলীগের নেতৃত্বে তরুণরাই আসুক। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।

২৯তম জাতীয় সম্মেলনে (কেন্দ্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি এলাকার বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গ ও ফরিদপুর অঞ্চল আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

এছাড়া বৃহত্তর খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকেও নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনায় আসছে। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে বরিশাল অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রে শীর্ষ নেতৃত্ব এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে প্রায় নিয়মিত এই অঞ্চল থেকে নেতৃত্বে এলেও এবছর কেন্দ্রের নেতৃত্বে এ অঞ্চলটিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলে জোর আলোচনা চলছে। এরপরই আলোচনায় রয়েছে উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রাম অঞ্চল। সর্বশেষ ছাত্রলীগের ২৬তম সম্মেলনের মাধ্যমে ২০০৬ সালে উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব আসে। এরপর ২৭ ও ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে এই দুটি অঞ্চল থেকে আর নেতৃত্ব আসেনি। ফলে এবারের সম্মেলনের প্রার্থী নির্বাচনে এই দুটি অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ২৭তম সম্মেলনে বৃহত্তর খুলনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব এসেছে। ফলে এবারের সম্মেলনে খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে পূর্বের ঐতিহ্য অনুযায়ী ফরিদপুর থেকে একজন নেতৃত্বে আসবেন বলে আলোচনা আছে ছাত্রলীগে।