পৃথিবী ধ্বংসের যন্ত্র স্টেইটাস-৬ , তৈরি করবে ৩০০ ফুট উঁচু সুনামি

860

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাস তৈরি করে শহরের পর শহর ধ্বংস করে দিতে পারে রাশিয়ার নতুন মানুষবিহীন (ড্রোন) স্টেইটাস-৬। ঘণ্টায় ৫৬ নটিক্যাল মাইল গতির এই সাবমেরিন ৬ হাজার ২০০ মাইলে দূরে পর্যন্ত হামলা চালাতে পারবে।

এই পারমাণবিক সাবমেরিনে ৩০০ ফুট উঁচু সুনামি তৈরি হবে। ফলে মুহূর্তেই পানিতে ডুবে যাবে সমুদ্র উপকূলবর্তী শহরগুলো। এই ড্রোন সাবমেরিনকে পুতিনস ডুমসডে মেশিন নামেও ডাকা হয়। যার বাংলা করলে দাঁড়ায়- পুতিনের পৃথিবী ধ্বংসে যন্ত্র।

পানির নিচে ৫০ মেগাটনের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৩২০ ফুটের বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাস তৈরি করতে পারবে এই যন্ত্রটি। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ডুবোজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতেও সক্ষম বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

উচ্চগতির এই ডুবোজাহাজ আন্তঃমহাদেশীয় হামলা চালাতে সক্ষম। এটি একদিকে যেমন পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে, অন্যদিকে যুদ্ধজাহাজসহ সমুদ্র উপকূলের যে কোনো স্থাপনায় অনায়াসে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দিতে পারবে। সমুদ্রের এত গভীর থেকে উচ্চগতিতে হামলা চালাতে সক্ষম যে শত্রুরা এটিকে বাধা দেয়ার সুযোগ পাবে না, এটি সত্যিই অসাধারণ।

মানববিহীন এই ডুবোজাহাজ মুহূর্তেই সমুদ্র উপকূলের শহরগুলো ধ্বংস করে দিতে পারবে। এটি ২০-৫০ মেগাটনের যে পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে, তাতে ২০১১ সালের জাপানের সুনামি কিংবা তার চেয়েও আরো ধ্বংসাত্মক সুনামি তৈরিতে সক্ষম হবে। জাপানের সুনামিতে ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল। দযুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র উপকূলে এই ডুবোজাহাজের পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে তেজস্ক্রিয় বৃষ্টির মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়াগোর মতো শহরে ব্যাপক বিপর্যয় তৈরি করা সম্ভব।

ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার

ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে বিশ্বে। আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আরএস-১২এম তোপলভের সফল পরীক্ষা করল রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আস্ত্রাখান এলাকার কাপুস্তিন রেঞ্জ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়। এবং সেটি সফলতার সঙ্গে কাজাখস্তানে রাখা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

রুশ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে উন্নত যুদ্ধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করে দেখার জন্য আন্তঃমহাদেশীয় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়েছে। এই মিসাইলের পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় কাজে লাগানো হবে যাতে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা যায়।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার কৌশলগত বাহিনী অত্যাধুনিক ইয়ার্স আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ইয়ার্স হচ্ছে তোপল-এম ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ এবং কঠিন জ্বালানি চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র একইসঙ্গে কয়েকটি ওয়ারহেড বহন করতে পারে।