হোম অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৬মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ৪৩৭জনকে বৈধতাদানের অভিযোগ

22037

ওয়ানবাংলানিউজ: ব্রিটেনে হোম অফিসের এক কর্মকর্তা ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ৬ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত অবৈধ অভিবাসীদের ব্রিটেনে বৈধভাবে থাকার সুযোগ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার সাথে শামসু ইকবাল (৬১) নামক হোম অফিস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি বিশ্বস্থতা ভঙ্গ করে কমপক্ষে ৪৩৭জনকে বৈধতা প্রদানে সহযোগিতা করেছেন।

বিশাল এই দুর্নীতির সাথে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তুলা হয় বুধবার। আগামী সাপ্তাহে তাদের সাজার ব্যাপারে শুনানী হবে। তাদের সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল হতে পারে।
৪৩৭জন অবৈধ অভিবাসীদের বৈধভাবে থাকার সুযোগ প্রদান করায় এবং উক্ত ব্যক্তিবর্গ বেনিফিট গ্রহন করায় ব্রিটিশ করদাতাদের প্রায় ৫৬ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে হোম অফিস। যদিও হোম অফিস বলতে পারেনি ঠিক কতজনকে ভৌতিকভাবে বৈধতা দেয়া হয়েছে।

মেইল অনলাইনের রিপোর্টে বলা হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৬.১৮ মিলিয়ন পাউন্ড এই চক্র পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও দুবাইয়ে সরিয়ে নিয়েছে। সেখানে তাদের শক্তিশালী লিংক রয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয় যখন এই চক্রের দল নেতা ইকবালকে গ্রেফতার করা হয় তখন তার একাউন্টে ১ মিলিয়নের বেশি পাউন্ড পাওয়া যায়। যদিও তিনি হোম অফিসে কাজ করার সুবাদে বার্ষিক ২৩ হাজার পাউন্ড বেতন পেতেন। ইকবাল এবং তার তিন সহযোগি অবৈধ অভিবাসীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৪ হাজার পাউন্ড করে নিয়ে তাদের সহযোগিতা করতেন।

হোম অফিসের এক কর্মকর্তা মেইল অনলাইনকে জানিয়েছেন, এই চক্রকে ধরতে তিন বছরের বেশি সময় লেগেছে এন্টি করাপসন ইউনিটের। ঠিক কতজনকে বৈধতা দেয়া হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন এখানে বৈধতার ব্যাপারে ভৌতিকতার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কাউকে দেয়া হয়ে লিভ টু রিমেইন, আবারো কাউকে নো টাইম লিমিট দেয়া হয়েছে।

এই প্রতারনা বছরের পর বছর হয়েছে এজন্য হোম অফিস বিব্রত। তিনি বলেন, এদের মধ্যে কিছু কিছু সন্ত্রাসীও থাকতে পারে। যারা সমাজে মিশে গেছে তাদের হয়ত সনাক্ত করা সম্ভব হবে না।

ইকবালের অপর তিন সহযোগি হচ্ছেন শেখ মুহাম্মদ উসমান ৪৫, তিনি পেশায় কেইস ওয়ার্কার, মোহাম্মদ কাওছার আফতাব হোসেন ৪৯, মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী ৪৮। উসমান পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত আইনজীবি, কাওছার আফতাব হোসেন ও পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত, বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ইব্রাহিম আলী ১২ বছর বয়সে ব্রিটেনে আসেন। তিনি পেশায় একজন সলিসিটার।
তাদের বিরুদ্ধে ২০১০ সাল থেকে২০১৬ সাল পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের অবৈধভাবে সহায়তার জন্য ১৩টি অভিযোগ অভিযুক্ত করা হয়।