জীবিত হবেন মা ,৩ বছর মৃতদেহ ফ্রিজে ‘মমি’ করে রাখল ছেলে

553

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রবিনসন স্ট্রিটের চেয়েও ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল বেহালার ঘোলাপুরের বাসিন্দারা। মায়ের মৃতদেহ গত তিন বছর ধরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখার অভিযোগ উঠল লেদার টেকনোলজির মেধাবী পড়ুয়া এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। ছাত্রটির নাম শুভব্রত মজুমদার।

পুলিশ ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে শুভব্রতর মা বীণাদেবীর মৃত্যু হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর মায়ের দেহ দাহ না করে বাড়িতেই ফ্রিজের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখেন শুভব্রত। তার বিশ্বাস ছিল, বিজ্ঞানের একদিন এমন উন্নতি হবে যে, মায়ের মৃতদেহে প্রাণ ফিরে আসবে। মৃতদেহে যাতে কোনও বিকৃতি না ঘটে, তাই একেবারে বিশেষজ্ঞদের ধাঁচে মায়ের পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বার করে রাসায়নিক মাখিয়ে দেহ বড় ফ্রিজারে ঢুকিয়ে রাখে ছেলে।

গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে বুধবার (৪ এপ্রিল) গভীর রাতে বেহালা থানার পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। বাড়ির ভিতরে ঢুকে পুলিশকর্মীদের অবাক হওয়া ছাড়া আর কিছুই হওয়ার ছিলনা। তল্লাশি চালিয়ে তারা দেখতে পায়, ফ্রিজের ভিতর বীণাদেবীর মৃতদেহ ‘মমি’র মতো সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

পুলিশ মনে করে, শুভব্রতর বাবা গোপাল মজুমদারও এই ঘটনার কথা জানতেন। বীণাদেবী পেশায় সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন। হয়ত তার পেনশনের টাকার লোভে গোপালবাবু ও তার ছেলে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

জেমস লং সরণির বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে আইসক্রিম রাখার একটি বড় ফ্রিজার যেখানে মৃতদেহ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। শুভব্রত ও গোপালবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এই ঘটনার মূলে যেতে চাইছে।

প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, শুভব্রতর বয়স ৫০-এর বেশি নয়। আগে তিনি বানতলায় চর্মনগরীতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করত। অত্যন্ত মেধাবী এই ছাত্র পড়াশোনা করতেন লেদার টেকনোলজি নিয়ে। প্রতিবেশীরা আরও বলেন, কিছুদিন পর কাজ ছেড়ে শুভব্রত বাড়িতেই থাকতেন মা বীণা মজুমদার ও বাবা গোপাল মজুমদারের সঙ্গে। সেই সময় তার স্বভাবেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। ওই বাড়িতে গত ২০ বছর ধরে কেউ ঢোকেননি বলে জানা গিয়েছে। বাড়িতে আসতেন না শুভব্রতদের কোনও আত্মীয়স্বজনও। পাড়ার লোকেদের সঙ্গেও ওই বাড়ির সদস্যরা বিশেষ কথা বলতেন না কোনওদিনই। প্রতিবেশীরা জানতেন, বছর তিনেক আগে বীণাদেবী মারা গিয়েছেন।

অন্যদিকে বীণাদেবীর স্বামী ও ছেলে দাবি করতেন, বীণাদেবীর দেহ পিস হাভেনে রাখা রয়েছে। কিন্তু আদতে বাড়িতেই ওই দেহ মমি করে ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়। ছেলের বিশ্বাস ছিল, মা একদিন ফিরে আসবেনই।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিচ্ছেন, নিরাপত্তাহীনতা ও মায়ের প্রতি অগাধ আস্থা এই কাণ্ড ঘটাতে পারে। তবে শুভব্রতর মানসিক সুস্থতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন।