আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লি ওয়েনজুর স্বামী ছিলেন একজন আইনজীবী এবং পুলিশী নির্যাতনের বেশ কিছু মামলা তিনি দেখছিলেন। হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে গেলেন ওই ব্যক্তি। ওয়েনজুর অভিযোগ, তিন বছরের বেশি সময় আগে তার স্বামীকে আটক করেছে সরকার।
এরপর থেকে স্বামীর কোন খোঁজই পাচ্ছেন না লি। তার স্বামী জীবিত আছে কি-না তাও নিশ্চিত নন তিনি। এখন তিনি জানতে চান যে আসলে তার স্বামীর ভাগ্যে কি ঘটেছে। আর সে কারণে তার স্বামী ওয়াং কুয়ানঝ্যাং যেখান থেকে আটক হয়েছিলো সেই তিয়ানজিন শহর অভিমুখে বেইজিং থেকে পদযাত্রা শুরু করেছেন তিনি।
স্বামীর খবর পেতে এ যাত্রায় তার হাঁটার কথা রয়েছে অন্তত একশ কিলোমিটার বা ৬২ মাইল।
ওয়াং ২০১৫ সালে দেশব্যাপী পরিচালিত এক অভিযানের সময় আরও অন্তত দুশো অধিকার কর্মীর সাথে আটক হন। ওই অভিযানটি পরিচিত হয়ে উঠেছিলো ‘৭০৯’ অভিযান হিসেবে। কারণ জুলাইয়ের নয় তারিখে সেটি শুরু হয়েছিলো।
আর অভিযানে যারা আটক হয়েছিলো তাদের অনেককেই বড় অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছিলো চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
লি এখন তার বারো দিনের পদযাত্রা করছেন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরির জন্য যাতে করে তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামীর ক্ষেত্রে আসলে কি হয়েছে। তার সন্দেহ যে তার স্বামীকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘তারা (কর্তৃপক্ষ) আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। একজন নির্দোষ মানুষকে এভাবে আটক করা এবং এক হাজার দিন ধরে বন্দী রাখা – আমি মনে করি এটি একটি নিষ্ঠুরতা। এটা নির্দয় ঘটনা।’
লি তার এ পদযাত্রায় সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন আরও একজন নারীকে যার স্বামীও একজন অধিকার কর্মী এবং তাকেও কারাদণ্ড দিয়েছিলো কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা















