উত্তরের পাঁচ জেলায় শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব, বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু

818

ঢাকা সংবাদদাতা: দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। এই সময় বজ্রপাতে দুই জন মারা গেছেন। অপরদিকে ঝড়ে ঘর বাড়ি ও গাছ পালা উপড়ে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। বজ্রপাতে মারা যাওয়া শামিমের বাড়ি বদরগঞ্জ ও নয়া মিয়ার বাড়ি তারাগঞ্জ। তারা দুই জন ক্ষেতমজুর। শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে ফসলের। ছোট ছোট আমের গুটি নষ্ট হয়ে গেছে।

শুক্রবার লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে শিলা বৃষ্টিসহ প্রবল ঝড় বয়ে যায়। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধা উপজেলায় শিলা বৃষ্টি এবং লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী ও পাটগ্রাম উপজেলায় হালকা শিলা বৃষ্টিসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে থাকায় এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো জেলা। সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে লালমনিরহাট কৃষি বিভাগ। লালমনিরহাটে শিলা পড়ে ঘরের টিন ফুটো হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, কৃষি বিভাগ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। আকাশের অবস্থার উন্নতি ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রাথমিকভাবে সবজি ক্ষেত, আম, লিচুর মুকুলসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

পাটগ্রাম বাউরা ইউনিয়নের জমগ্রাম এলাকার ইনাম প্রামাণিক বলেন, এমন শিলাবৃষ্টি কখনো দেখিনি। চৈত্রমাসে কাল বৈশাখী ঝড় কি জলবায়ু পরিবর্তনের আলামত? সময় এসেছে ছয় ঋতুর বাংলাদেশের আবহাওয়া নিয়ে গবেষণা করার। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন ঘটলে কৃষিতে মারাত্মক দুর্যোগ নেমে আসতে পারে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবল শিলা বৃষ্টি আর ঝড়ে পাকা গম ও আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় আধ ঘণ্টার ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটির খড়ের তৈরি কাঁচা বাড়িঘরেরও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা গেছে।

বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস গরম ও ধুলাবালি থেকে মানুষকে স্বস্তি এনে দিলেও কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে জেলার ৫টি উপজেলার তিন হাজার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সড়কে গাছপালা ভেঙে পড়ে ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ায় জনজীবন ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আফতাব আহমেদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করার কাজ করা হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এ উপজেলার হাড়িভাসা, হাফিজাবাদ, কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার হাইব্রিড টমেটো ও তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরে গেছে আম ও লিচু গাছের মুকুল। এছাড়া গম ও ভূট্টা ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এই সময় প্রচুর পরিমাণে শিলাবৃষ্টি হয়।

পঞ্চগড়ে ঝরে পড়েছে আমজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের কৃষক নুরুজ্জামান জানান, তার টমেটো ও তরমুজ ক্ষেতের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক শিলাবৃষ্টি ফল ও ফসলের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ‘তাৎক্ষণিক ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এই সময় বজ্রপাতে দুই জন মারা গেছেন। অপরদিকে ঝড়ে ঘর বাড়ি ও গাছ পালা উপড়ে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। বজ্রপাতে মারা যাওয়া শামিমের বাড়ি বদরগঞ্জ ও নয়া মিয়ার বাড়ি তারাগঞ্জ। তারা দুই জন ক্ষেতমজুর। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে প্রচণ্ড ঝড়ে রংপুর নগরী ছাড়াও গঙ্গাচড়া, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে। বিশেষ করে পাথরের মতো শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানক্ষেত, ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, টুকুরিয়ার চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান ও চতরা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শামীম জানান, ঝড়ের চেয়ে শিলাবৃষ্টিতে তাদের এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ জনকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার।