অর্ধশতাধিক ব্রিটিশ এমপির উপস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন: রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের প্রশংসা

1560

ওয়ানবাংলানিউজ: যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে অর্ধশতাধিক ব্রিটিশ এমপির উপস্থিতিতে অনন্য মর্যাদায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন করলো যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।
২৭মার্চ মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের, হাউজ ওব কমন্সের ” দি টেরেস প্যাভিলিয়নে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণকারী ছিলেন জিম ফিজপেট্রিক এমপি। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এজাতীয় অনুষ্ঠানে কোন সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণকারী হিসাবে দায়িত্ব নিতে হয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।

অনুষ্ঠানে আগত ব্রিটিশ এমপিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে ব্রিটেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পাশে আছে । বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশের উন্নয়ন পাশে থাকার ঘোষণা দেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের নেয়া পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন সব বক্তাই। তবে কোন কোন বক্তা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সকলের দলের অংশগ্রহনে হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সঙ্গীতা আহমেদ ও সৈয়দা সায়মা আহমদের যৌথ পরিচালনায় এই আয়োজনের শুরুতে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জিম ফিজপেট্রিক এমপি। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যে সংখ্যক এমপি হাজির হয়েছেন অন্য কোনো অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমনটি আর ঘটেনি। লেবারদলীয় এই এমপি আরো বলেন, স্বাধীনতার সূচনা থেকে বাংলাদেশ ব্রিটেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকীর এই আয়োজনে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, তিনি স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডনে আসার কথা উল্লেখ করেন। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী এডোয়ার্ড হিথের ভূমিকাও স্মরণ করেন।
বাংলাদেশের বন্ধু হিসাবে পরিচত এন মেইন এমপি, বলেন সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করছেন, যা না বললেই নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যে প্রশংসা করে বলেন মাত্র ৪৭ বছরে যে উন্নয়ন করেছে তা সত্যই অকল্পনীয়।
এডিংবার সাউথ ইস্ট এর এম পি জোয়েনা বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রশংসা করেন। তিনি ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশন জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন আপনারা আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর উদযাপন করছেন, আমি আশাবাদী স্কটল্যান্ড একদিন স্বাধীনতা অর্জন করবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের মানবিক ভুমিকার ও প্র স্টিভেন স্টিংস এম পি। পাশাপাশিবাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে, বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্র অভাবনীয় সফলতার উল্লেখ করেন।
নাজমুল কাওনাইন বলেন, যে কোন দেশে জাতীয় দিবস উদযাপন অবশ্যই গৌরবের। দেশ এখন জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। এই অগ্রযাত্রায় ব্রিটেনের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। জিম ফিজ পেট্রিক আমাদের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু থেকে এখনো পাশে আছেন।
লিস ম্যাকানিজ বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেটা আবার প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের মানুষ।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন বক্তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁরা বাংলাদেশের উন্নয়নর পক্ষে ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের কারণ হিসাবে, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ব্রিটেনের কেন্দ্রের সাথে সংযোগ স্থাপনের লক্ষেই এই আয়োজন।

যুক্তরাজ্যের সরকারী দল কনজারভেটিভ, বিরোধী দল লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির এমপিসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্রিটিশ এমপি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ব্রিটিশ এমপিদের মধ্যে ৫৩ জন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে নিজেদের উপস্থিতি স্বাক্ষর বইয়ে রেকর্ডভুক্ত করেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্রিটেন অতীতের মতো সবসময় পাশে থাকবে।
ব্রিটিশ সংসদের বাংলাদেশ বিষয়ক অল পার্টি এ্যালায়েন্সের চেয়ার এন মেইন এমপি বলেন, ৪৭ বছর আগে বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করেছে। আজ তারা সেই সংগ্রামের বিজয়কে উদযাপন করছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে দুটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া দেশাত্ববোধক গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এমপিদের হাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচার ইংরেজি সংস্করনসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভিন্ন পরিসংখ্যান সম্বলিত তথ্য ব্রিটিশ এমপিদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য ব্রিটিশ এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জোয়ানা চ্যারি, জুলি কুপার, মিসেস হেলেন গ্রান্ট (কানজারভেটিব পার্টির ভাইস চেয়ার), মাইকেল এলিস (পালামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারী), টমি শেফার্ড (শ্যাডো এসএনপি স্পোকস পার্সন), ডেভি আব্রাহাম (শ্যাডো সেক্রেটারী অব স্টেইট ফর ওয়ার্ক এন্ড পেনশন), ভ্যালেরি ভাজ (শ্যাডো লিডার অব দি হাউজ অব কমন্স), চিয়ন ওয়ারা, জনাথন অ্যাশওয়ার্থ (শ্যাডো সেকেটারী অব স্টেইট ফর হেলথ), জন ম্যাকডোনাল্ড (শ্যাডো চ্যান্সেলার অব দি এক্সচেকার), কিয়ার স্টার্মার, জন স্টিফেন্স, ক্রিশ্চিয়ান ম্যাথসন, মোহাম্মদ ইয়াসীন, হেলেন গ্রান্ট, জেসিকা মর্ডান, জুডিথ কউমিন্স, জিম ম্যাকমোহান, জনাথন রেনল্ডস (শ্যাডো ইকোনমিক সেক্রেটারী), পল স্কালি, মাইক ফির, ফাবিয়ান হ্যামিলটন, উইল কুইন্স, মার্ক টামি, রবার্ট বাকল্যান্ড কিউসি, লিজ ক্যান্ডাল, ড্যানিয়েল জেনার, অ্যাঞ্জেলা রায়নার, লয়েড রাসেল ময়লি, নিক ডাকিন, স্টিভ ম্যাককেভ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন।

তথ্য সূত্র ও কৃতজ্ঞতা সাংবাদিক জুয়েল রাজ