ঢাকা সংবাদদাতা: দেশের মাটিতে যদি তামাক ও ধূমপান থাকে তাহলে বিড়িশিল্পকেও রাখতে হবে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ বিড়িশ্রমিক ফেডারেশন। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
ফেডারেশনের যুগ্ম সাম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, তামাক ও ধূমপান যদি বাংলার মাটিতে থাকে তাহলে বিড়িশিল্পও থাকবে। আর যদি ধূমপান দেশে না থাকে তাহলে সবার আগে সিগারেট বন্ধ করতে হবে, এরপর বিড়ি। কারণ বিড়িশিল্প দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর।
এ সময় নিজেদের নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন শ্রমিকরা। বিড়িতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে, সিগারেটে তেমন নেই-অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন তাঁরা। সেই সঙ্গে বিড়ির ওপর প্রস্তাবিত বাজেটের অতিরিক্ত রাজস্ব কর প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তাঁরা।
এসব দাবি মেনে না নেওয়া হলে ঢাকা অবরোধ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের সামনে অনশনের ঘোষণাও দেন বিড়িশিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিড়িশ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে বিড়িশিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে প্রায় ১৬ লাখ শ্রমিক। এসব শ্রমিকের পরিবারের সদস্য রয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী বিড়ির ওপর অধিক হারে রাজস্ব কর প্রস্তাব করেছেন, যা বিড়িশিল্প ধ্বংস করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এই প্রস্তাবের পর বাংলাদেশের সব বিড়ির কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। ফলে সেই সব ফ্যাক্টরি ও কারখানায় কাজ করা প্রায় ১৬ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একদিকে দেশীয় বিড়িশিল্পের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোকে সুবিধা দিচ্ছেন। এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদদে একদিকে দেশের বিড়িশিল্প ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। এতে দেশের বিড়িশিল্পে নিয়োজিত প্রায় ১৬ লাখ শ্রমিক বেকার হচ্ছে। আর খেটে খাওয়া মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই দেশের বিড়িশিল্পের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বিড়িশিল্পে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক উল্লেখ করে এর বিপরীতে সরকারের কাছে কিছু দাবি তুলে ধরেন বিড়িশ্রমিকরা। এগুলো হলো :
বিড়িতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে, সিগারেটে তেমন নেই-অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির এ দেশীয় দালালদের রুখতে হবে।
বিড়ির বাজারকে নিম্নমানের সিগারেটের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিড়ির মজুরি বাড়িয়ে প্রতি হাজারে ৬০ টাকা করতে হবে।
নিম্নমানের সিগারেটের প্রতি শলাকার দাম যেন ৫ টাকা হয়, এমনভাবে সিগারেটের ওপর রাজস্ব নির্ধারণ করতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি হিসাব তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিড়ির দাম বেড়েছে প্যাকেটে ৮ টাকা। অন্যদিকে নিম্নমানের সিগারেটের প্যাকেটের দাম বেড়েছে চার টাকা। আর দামি সিগারেটের দাম বাড়েইনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রমিকবান্ধব উল্লেখ করে ফেডারেশনের সহসম্পাদক হারিক হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রী শ্রমিকবান্ধব নন। তিনি সরাসরি টোব্যাকো কোম্পানির দালালি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন হারিক হোসেন।
শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে লাখ লাখ বিড়িশ্রমিক ঢাকায় এসে অবরোধ করবেন বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ার করা হয়। আর এতেও যদি কাজ না হয়, শ্রমিকরা হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অনশন করবেন বলেও জানান শ্রমিক নেতারা।















