লন্ডন এবং ম্যানচেস্টারে আবারো আক্রমণ; ইসলামের নামে আরেকটি বলাৎকার

2483

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আব্দুস শহীদ : গত শনিবার আবারো লন্ডনে টেররিস্ট এট্যাক হয়েছে। কে করেছে, কেন করেছে এখনো জানা যায় নি। কিন্তু চাক্ষুষ সাক্ষ্য থেকে জানা যায় যে যারা আক্রমণে জড়িত ছিলো তারা আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করে করে আক্রমণ করে। অনেকে অনেক কিছুই বলেছেন এই বিষয়ে।

এর আগে মসজিদের ইমামরা অনেক খুৎবায় তীব্র ভাষায় এই জঘন্য কাজ প্রত্যাখ্যান করে নিন্দা করেছেন। আমিও অনেক লিখেছি ইসলাম এবং টেররিসম এর উপর। কোনো স্কলার পাইনাই যিনি বলেছেন যে নিরীহ জনগণের উপর আত্মঘাতী হামলা ইসলাম উৎসাহিত করে।

পূর্বপর্তি লেখায় আমি কোরান এবং হাদিসের আলোকে একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম। গত শনিবার লন্ডন ব্রিজের হামলার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি এবং আমার আজকের আর্টিকেলটা মূলত ম্যানচেস্টারের আক্রমণের উপর ভিত্তি করে লেখা। কিন্তু মুসলিমরা যে কারণে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন তা হলো যারা এই ধরণের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের মোটিভ জানা সম্ভব নয়। কারণ তাদের অনেকেই নিজেরা নিজেদের হত্যা করেছে। কিন্তু আমার ভয় হলো যে সমগ্র ইউরোপ এবং আমেরিকা মিলে হয়তো খুব শিগ্রই একটি গোলটেবিল বৈঠক করবে কিভাবে এই দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করা যায় তার উপর।

দৃশ্যত মুসলিমরা এই বৈঠকে থাকবে বিপরীত দিকের গীতবাদ্যকর । ধনাত্মক ভাষ্য হলো যে অনেকেই এই বৈঠকে ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে মুসলমানদের বের করে দেয়া যায় কিনা, এই বিষয়টাও তলিয়ে দেখতে চেষ্টা করবে। এই কথা গুলো শুনতে কিন্তু কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়। কিন্তু আমাদের ইতিহাস ভুলে থাকলে চলবে না। আমি পাঠকদের স্পেনের ইতিহাস পড়তে অনুরোধ করবো। আর ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য এটা খুবই অস্বস্তিকর যে মুসলমানরা ইউরোপ এবং আমেরিকায় যে ভাবে বাড়ছে তা তাদের সুদূর প্রসারী কর্মতৎপরতার পরিপন্থী হিসাবে তারা দেখে। লন্ডনের গতকালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত পরে লেখার প্রত্যয় রইল।

ম্যানচেস্টারের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চলে আসি। অত্যন্ত নিষ্ঠুর, নির্মম! কলম থেকে ভাষা আসছেনা, আমার কলম থেকে রক্ত ঝরছে! এই নৃশংসতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আরেকটি নৃশংসতা, অসহায়, অরক্ষিত শিশুদের উপর জগন্য আক্রমণ। হৃদয়বিদারক, শ্বাসরূদ্ধকর এবং কাপুরুষিত। এই নৃশংস হত্যাকান্ড জড়িত তরুণ ব্রিটেনেই বেড়ে ওঠা; কিন্তু তার পিতামাতা লিবিয়া থেকে পালিয়ে এসেছিলেন গাদ্দাফির নির্যাতন থেকে ছেলেমেয়েদের রক্ষা করতে। সে এই দেশে বেড়ে উঠেছে, এখানে স্কুলে গিয়েছে আরো কত কিছু।

সেই ছেলে নিজে যেমন নিজেকে হত্যা করলো সাথে সাথে ২২ জন শিশুদের নির্মম ভাবে হত্যা করলো। দুর্ভাগ্য এই যে ইসলাম এবং মুসলিম এই দুটি নাম সাথে সাথে জড়িয়ে গেলো এই বর্বরতার সাথে। হত্যাকাণ্ডের পর পরই ব্রিটেনে মুসলমানদের উপর আক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। মুসল্লিরা তারাবির নামাজে আসতে যেতে মোটেই নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। আরিয়ানা গ্রান্ডে, বর্তমান সময়ের একজন পপ সংগীত শিল্পী, ওর প্রোগ্রামে সমগ্র ব্রিটেন থেকে শিশু এবং তরুণরা উপস্থিত হয়েছিল। ওদের ওখানে উপস্হিতি কারো দৃষ্টিতে ভালো আবার কারো দৃষ্টিতে খারাপ হতে পারে , কিন্তু সর্বোপরি ওরা শিশু ছিলো। তাদের সামনে জীবন ছিলো, সুন্দর জীবন। ওদের সুন্দর ভবিষ্যত হাত ছানি দিয়ে ওদেরকে ডাকছিলো, কিন্তু নিমিষেই শেষ হয়ে গিয়েছে।

ওয়েস্টমিন্স্টারের হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২ মাসের মাথায় এই হত্যা সংগঠিত হয়। আমরা ব্রিটেনের মুসলিমরা বিব্রত। কোনো খৃস্টান অথবা অন্য ধর্মাবলম্বী কোনো ক্রাইম করলে তার নামের সাথে ধর্ম জুড়ে দেয়া হয় না, কিন্তু কোনো ক্রিমিনাল যদি মুসলিম হয় তবে ফলাও করে তার ধর্মটাও প্রচার করা হয়। এক অর্থে, এই প্রপাগান্ডায় এটাই প্রমাণিত হয় যে ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। কারণ এই ধর্মের সাথে হত্যাকাণ্ডের মতো জগণ্য পাপকাজ মোটেই মানায়না, তাই সবাই চমকিয়ে ওঠে এবং এটা ফলাও করে প্রচারিত হতে থাকে।

আশার বাণী হলো ব্রিটিশ মুসলিমরা সর্বস্তর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই হত্যাকান্ডকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মসজিদের ইমামরা পরিষ্কার ভাষায় বলেদিয়েছেন এই ধরণের জগন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে ইসলামের কোনো সংযুক্তি থাকতে পারে না। আমি এই পর্বের পূর্বে কোরান এবং হাদিসের আলোকে লিখেছি যে ইসলামে সুইসাইড বোমা হামলার স্থান নাই, এবং ইসলাম কখনো নিরীহ নরনারী হত্যা সমর্থন করে না।

এই জগন্য হত্যাকাণ্ডের পর সমাজের বিভিন্ন পেশার লোকেদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। প্রাইম মিনিস্টার থেরেসা মে বললেন ‘ জগণ্য হত্যা কান্ড, হত্যাকারীর আবৃত এন্ড বিকৃত মানসিকতা, আবার জেরেমি করবিন, লেবার পার্টির নেতা, বললেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র নীতি আত্মঘাতী হামলাগুলোর জন্য অনেকাংশে দায়ী, তিনি প্রতিজ্ঞা করেন তার দল ক্ষমতায় গেলে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র নীতির আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবেন।

জেরেমি করবিন অবশ্য কথাগুলো খুবই সতর্কতার সহিত বললেন। তিনি বললেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পররাষ্ট্র নীতির কথা তোলা সাহসের কাজ। তিনি আরো একটু পরিষ্কার করে বলতে পারতেন যে হত্যাকাণ্ডের যদিও কোনো অজুহাত হতে পারে না, কিন্তু এটা পর্যবেক্ষণ করা দরকার যে আত্মঘাতী জগণ্য কাজের উৎস কোথায়। তার কথা অনেকেই অবান্তর ও বিভ্রান্তিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন।

জেরেমি করবিন বর্তমান সময়ের একজন সেকেলে রাজনীতিবিদ। কারণ, তিনি সত্য কথাটা বলে ফেলেন সহজে। সত্য কথা কখনো কখনো যে বলতে নাই এটা তার ফিলোসফিতে নাই। আমার পর্যবেক্ষণে বিশ্বের সম্ববত একমাত্র বর্তমান নেতা যিনি অহেতুক লাঞ্ছনার শিকার শুধু সত্য কথা বলার কারণে। তিনি আমকে আমই বলেন, কাঁঠাল বলেন না। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমকে জাম অথবা কাঁঠাল বলা যে খুবই প্রয়োজনীয়ও সেটা তার মাতায় আসে না। এখানে বলে নেয়া ভালো যে আমি লেবার পার্টি’স ক্যাম্পেইন করছিনা। অধিকন্তু, আমি তার নির্বাচনী মেনিফেস্ট মোটেই সমর্থন করি না। কেনো করি না, এখন লিখছিনা!

আপনারা যারা আমার লেখাগুলোর দিকে নজর রাখছেন, তার হয়তো লক্ষ্য করছেন বিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের হাওয়া আমার অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। খোঁজার চেষ্টা করছি কেনো তাড়াতাড়ি চরম ডানপন্থীদের উত্থান হচ্ছে। কারণগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। কিন্তু ইতিহাসের নিজস্ব একটা গতি আছে। যুগে যুগে ইতিহাস বিকৃতি করার চেষ্টা হচ্ছে সুন্দর সুন্দর কথায় এবং সুন্দর সুন্দর ভাষায় স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে, কিন্তু লেখা যেভাবেই হোক না কেনো, ইতিহাস গড়িয়ে যাবে সময়ের সাথে সাথে, সেটা লেখা হোক আর নাই হোক।

জেরেমি করবিন সত্য কথাটা বললেন, যে কথাটা আজকের বিতর্কের একটি প্রথম বিষয় হওয়া উচিত ছিলো। একটু পিছনে ফিরে তাকাই। দ্বিতীয় গালফ যুদ্ধের প্রাক্কালে সাংবাদিকরা সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্ভাচেভকে প্রশ্ন করেছিলো ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কে মন্তব্য করতে। বিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ বলেছিলেন একটি মাত্র বাক্য যে -যুদ্ধের পরে পৃথিবীর অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যাবে, দুনিয়াটা সমান থাকবে না। যে যার মতো করে তার কথাগুলো বুঝে নিয়েছিলো।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট বুশ এবং প্রাইম মিনিস্টার টনি ব্লেয়ার ঠিকই যুদ্ধে গিয়েছিলো। যুদ্ধের পর ওয়ার্ল্ড কি দেখলো! ইরাক এবং সিরীয়া আজ জর্জরিত। দুটি দেশ আজ বিধ্বস্ত, মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশান্তর। কেউ হারিয়েছে পিতামাতা আবার কেউ হারিয়েছে ভাইবোন, কেউ বা হারিয়েছে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আর যারা দেশ ছেড়েছে ওদের মুখে, বুকে, অন্তরে আগুন। নিঃসন্দেহে সাদ্দাম হোসাইন খুব ভালো শাসক ছিল না। কিন্তু তাকে যে কারণে যে ভাবে অপসারণ করা হয়েছিলো যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে তা ইতিহাসের একটি অধ্যায়, আমি বলবো, মনে হয়, এটি ইতিহাসের একটি কলংকিত অধ্যায় হিসাবে আখ্যায়িত থাকবে।

এখন আসি লিবিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গে। মুয়াম্মার গাদ্দাফি ছিলেন একজন নেতা যিনি লিবিয়া নামক দেশটাকে দারিদ্রসীমার নিচ থেকে টেনে একটি উন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। কয়েক দশক একাধারে লিবিয়ায়র শাসক ছিলেন। মানুষের মাঝে ছিলো সুখ, শান্তি আর ভালোবাসা, সব কিছুই এখানে ছিলো। সন্তান জন্মগ্রহণ করলে গভর্নমেন্ট আর্থিক সহায়তা প্রদান করতো। সমানভাবে, উনিভার্সিটিতে ভর্তি হলে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতো সরকার। লিবিয়ার কিছু লোক অবশ্যই তাকে কখনোই পছন্দ করে নাই। ঐতিহাসিক ভাবে আরব পেনিনসুয়েলার লোকরা বিভিন্ন গ্রোত্রে বিভক্ত, আর এক গোত্র অন্য গোত্রের শাসন মেনে নিতে পারেনা।

বেনগাজি লিবিয়ার একটি প্রদেশ, এখানকার গোত্রের লোকেরা জেনারেল গাদ্দাফির শাসন কখনই মেনে নিতে পারে নাই, কিন্তু বিভিন্ন সময়ে ওদের বিদ্রোহ সরকার কঠোর হস্তে দমন করেছিলো। ২০১০/২০১১ সালে যখন আরব স্প্রিং নামক আন্দোলন শুরু হলো, আরবের বিভিন্ন দেশের লোকেরা একনায়ক স্বৈরাচারী সরকারদের বিরুধ্যে আন্দোলন শুরু করেছিলো। বেনগাজি থেকে গাদ্দাফিকে সরানোর আন্দোলনে ব্রিটিশ এবং ফ্রান্স বিদ্রোহীদেরকে সরাসরি অস্ত্র দিয়ে প্রত্যক্ষ ভাবে সাহায্য করে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ফেলে ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে। বিভিন্ন মহল থেকে সাবেক ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টার ডেভিড ক্যামেরনকে সতর্ক করা হয়ে ছিলো, যে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরানো ফলশ্রুতি ভালো হবে না। লিবিয়ার পাওয়ার ভেক্যুমে নিয়ে আসতে পারে, তৎসহ দেশটাতে টেরোরিস্টদের প্রজনন স্থলে পরিণত হতে পারে। কিন্তু যা হওয়ার তাই হলো, ব্রিটিশ এবং ফ্রান্স নির্লজ্জ ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো। গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে অপসারিত করার পর কি হলো! খুন আর গুম, গ্যাং ফাইট, গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ-বিগ্রহ। কি দেশ ছিলো কি হয়ে গেলো! এই দেশের এই অবস্থার জন্য কে দায়ী।

একটা বিষয় এখানে না বললেই নয় আর তা হলো, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের বিদ্রোহীদের কে সাহায্যের অতি উৎসাহের কারণ কারো অজানা নয় কিন্তু বলতে লজ্জ্বা। সুসাধু তৈলের লোভে যা করা হয়েছে তা শুধু ইতিহ্যাসের আরেকটি কলংকিত অধ্যায়। যারা নিজেদেরকে দুনিয়ার অভিভাবক বলে দাবি করেন তারা কিভাবে নির্লজ্জ ভাবে একটি দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারেন! অর্থে বিত্তে স্বয়ংসম্পন্ন একটি দেশ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখানে ঠিকই আল-কায়েদা সহ বিভিন্ন টেররিস্ট গ্রুপ ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটা আমার ভাষ্য নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিপোর্ট করেছিলো “লিবিয়ার ব্রিটেনের ইন্টারভেনশন রক্তাক্ত সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলা এবং হিংসাত্নক প্রক্রিয়ার উম্ভব হয়েছে, যা আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচের দেশগুলির মধ্যে সংগর্ষের পাশাপাশি আইসিস এবং আল-কায়েদাকে শক্তিশালী করে তুলেছে”।

এই রিপোর্ট পাবলিশ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ম্যানচেস্টারে আরিয়ানা গ্রান্ডের প্রোগ্রামে আত্মঘাতী হামলা সংগঠিত হলো। প্রশ্ন থেকে যায় এই রিপোর্ট পাবলিশ হওয়ার পরে কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো এই ধরণের নৃশংসতা প্রতিরোধের জন্য! আরেকটি তথ্য না দিয়ে লেখাটার সমাপ্তি করতে চাচ্ছিনা। ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক ডামিয়েন ম্যাকেলবোয় নামক ব্রিটিশ সাংবাদিক লিখেছিলেন গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরালে লিবিয়াতে পাওয়ার ভেক্যুমে হয়ে যাবে, এবং দেশটায় টেরোরিস্টদের আস্তানায় পরিণত হয়ে যাবে।

আমার লেখা কিংবা জেরেমি করবিনের ভাষ্য নয়। উপরের তথ্যগুলো লিডিং নিউজপেপার্স গুলোর অনুসন্ধানী রিপোর্ট এবং ইতিহাস। সুতরাং, সত্য হলো যে ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্র নীতি আজকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকড় হতে পারে। ইসলামে এমন কোনো ইতিহাস নাই যেখানে কোরান অথবা হাদিস নিরস্র সাধারণ মানুষদের হত্যার আদেশ বা অনুমতি দেয়। সত্যকে মেনে নিয়ে সত্য তথ্য থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবষ্যৎ পরিকল্পনা করা শ্রেয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। টেরোরিস্টদের ধর্ম নেই।

মানুষের মধ্যেই একদল পথভ্রষ্ট হয়ে অন্যায় পথ বেঁচে নেয়, যখন তারা দেখে তাদের সব পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তারা যখন আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে অথবা অনিরাপদ অনুভব করে তখন সম্ভবত আত্বঘাতী হামলার পথ বেছে নেয়। লিবিয়া বলেন অথবা ইরাক বলেন, এই দেশগুলো থেকে তরুণরা জাহাজ ভরে ইউরোপ আসছে। না এসেও তো তাদের আর কোনো উপায় নাই। কিন্তু তাদের হাতে, বুকে মশাল। এই মশালে আগুন জ্বালাতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতি কি ভূমিকা নিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। রোগের উৎপত্তি না জানলে সে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ম্যানচেস্টারের, লন্ডনের হত্যা কাণ্ডের কোনো অজুহাত হতে পারে না।

পূর্বেই বলছি এ ধরণের আত্নঘাতী নৃশংস হত্যা কাণ্ডের কোনো ত্তজর হতে পারে না। বিশেষত ইসলামের সাথে যেমন এ ধরণের কুকর্মের কোনো সম্পর্ক নেই তেমনই মুসলিম তরুণরা যারা ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন তাদের কোনো ক্ষোভ থাকলে তা প্রকাশ করার ভাষা হতে হবে সভ্য সমাজের ভাষা। তরুণরা রাজনীতিতে বেশি বেশি করে জড়িত হতে হবে। সাদিক খান মুসলমানদের জন্য উদাহরণ হতে পারেন।

লন্ডনের মতো শহরের মেয়র একজন মুসলিম হতে পারলে, এই দেশের প্রাইম মিনিস্টার একজন মুসলিম হতে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না। একটা ব্যাপার তরুণদের মনে করিয়ে দিতে চাই আর তা হলো আপনারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের দিকে তাকান। কোন দেশ আছে যেখানে মানুষ তাদের মতামত ব্যাক্ত করতে পারছে নির্ধিদায় নির্বিগ্নে।