সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাচেষ্টার বর্ণনা দিলেন সংসদের চিফ হুইপ

883

ঢাকা সংবাদদাতা: নিজের ওপর হত্যাচেষ্টার হামলার বর্ণনা দিয়েছেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ।

হামলার ঘটনার পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালীতে নিজ বাড়িতে করা সংবাদ সম্মেলনে এ বর্ণনা দেন চিফ হুইপ।

হামলার ঘটনায় কারো সম্পৃক্ততা সন্দেহ করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য রুনিয়া বেগম বলেন, বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান মুন্সির প্রতি তাঁর সন্দেহ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বুধবার আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভায় হামলার ঘটনার সঙ্গে আজকের ঘটনার যোগসূত্র আছে। এর আগেও গত ২ জানুয়ারি বিলবিলাসের একটি সভায় আমার ছেলে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক রায়হান সাকিবকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।’

হামলার বর্ণনা করে চিফ হুইপ বলেন, ‘তারে কিচ্ছুক্ষণ আগে, হামলার ১০/১৫ মিনিট আগে কেউ হয়তো ওইখানে নামায় দিয়ে গেছে, হোন্ডায় করে। সে নিজেও স্বীকার করেছে। মিটিং যখন আমরা শুরু করতে যাচ্ছি বা শুরু করেছি, তখন দেখি একটা ছেলে হঠাৎ আমি যেখানে বসা, সেখানে আসার জন্য খুব উদ্গ্রীব। তাকে বাধা দেয় পুলিশ। কেন এই সময় তুমি? মিটিং চলছে, তুমি পরে কথা বলো। বলছে, না আমি এখনই কথা বলব। ও যখন বেশি বাড়াবাড়ি করতেছে, তখন আমার দুই সেক্রেটারি গেছে। ওরা বাধা দিয়ে যখন তাকে তল্লাশি করল, তখনই দেখে তার পেছনে এত বড় রামদা। তখন ওরে বাইরে নিয়ে গেছে। তারপর দেখে তার রামদা, মোবাইল এবং তার পকেটে নাকি গাঁজাও পাওয়া গেছে। কিন্তু আশ্চর্য হইছি, সে তো তখন নেশাযুক্ত ছিল না, একটা স্বাভাবিক মানুষ। এবং পুলিশ যখন তাকে চার্জ করতে গেল, সে তার মোবাইল ফোনটা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে।’

কেন তিনি বা তাঁর ছেলের ওপরই হামলার চেষ্টা হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘জাতীয়ভাবে এবং দলের সভানেত্রীর কাছ থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল এখন আমাকে ও আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করছে। আজ হুমায়ুন আজাদ বা ড. জাফর ইকবালের মতোই পরিণতি হতো আমার। আল্লাহর অশেষ রহমত আর বাউফলবাসীর দোয়ায় আমি রক্ষা পেয়েছি।’

কে বা কারা এ ধরনের হামলা করতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে সভায় উপস্থিত পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য রুনিয়া বেগম বলেন, ‘কিছুদিন ধরে বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান মুন্সি বিএনপি-জামায়াতের পরামর্শে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে নিয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র করছেন। আজকের শিক্ষা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করার কথা ছিল উপজেলা চেয়ারম্যানের। কিন্তু তিনি সভায় উপস্থিত না হওয়ায় সন্দেহটা আরো ঘনীভূত হচ্ছে।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আসামি রনিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

এদিকে নেতাকর্মীরা রনির বাসায় হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে বাউফল পৌরশহরে বিক্ষোভ করেছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরা।