ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপিকে ইডিয়ট পার্টি বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিগত জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলটি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেসময় একতরফা নির্বাচন তো আমরা করিনি। এটা ইডিয়ট পার্টি করেছে, টোটালি ইডিয়ট পার্টি। আমরা তো তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তোমরা অন্তর্বর্তী সরকারে আসো। তাদের স্টুপিড লিডাররাই তো এটা করেছে। এবার আর করবে না।’ গতকাল রবিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদায়ী বছর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সব সরকারই অংশগ্রহণমূলক সরকার। আগামীতেও হবে। আশা করি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে সবাই অংশ নেবে এবং উন্নয়নের সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ জিতবে।
নতুন বছরের অর্থনীতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে মুহিত বলেন, ২০১৮ সাল হবে অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তির বছর। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অর্থমন্ত্রী এসময় ব্যাংকিং খাত, আগামী জাতীয় নির্বাচন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে কোনো ঝুঁকি নেই। ব্যাংক ফেল করার কোনো চান্স নেই। সুতরাং আস্থার সংকট হবে না। ২০১৭ সালে কোনো সহিংস হরতাল হয়নি। কোনো মারাত্মক কিছু ঘটেনি। মানুষের স্বস্তি অনেক উচ্চমাত্রায় উঠে এসেছে। সোস্যাল সিকিউরিটি খুবই ভালো। চালের দাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের কারণে হয়েছে, এটা হওয়া উচিত না। এক্ষেত্রে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে মনে করেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে বিদেশি, সরকারি-বেসরকারি সাহায্য করা হচ্ছে। দাতাদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি, দেখি কী আসে। ইতোমধ্যে অনেকেই সাড়া দিয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে রাখাইনে স্বতন্ত্র রোহিঙ্গা জোন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৬২ করা হচ্ছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, হ্যা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছি। এখনো কোনো সাড়া পাইনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবনায় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নাম রয়েছে। এদের কেউ নিয়োগ পেতে পারেন। তবে সেটা নির্ভর করছে একান্ত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়।
ফারমার্স ব্যাংক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটিকে এর উদ্যোক্তারাই শেষ করে দিয়েছে। সরকার এটা দেখছে। ফারমার্স ব্যাংকের জন্য বেস্ট সলিউশন হবে এটা যদি অন্য কোন ব্যাংকের সাথে মার্জার করে। এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অন্য ব্যাংকের সাথে ফারমার্স ব্যাংকের মার্জারের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা ঠিক করবে।
ফারমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, হ্যা, নেয়া প্রয়োজন। কারণ ব্যাংকটির বর্তমান অবস্থার জন্য তারাই দায়ী। তিনি বলেন, তবে ব্যাংক দেউলিয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোন চান্স নেই। ব্যাংকে আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন মেধাবী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফারমার্স ব্যাংক নিলো, কিন্তু সেখানে উনি সফলতা পাননি। ব্যাপারটি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে তার যাওয়া ঠিক হয়নি।
সূত্র ইত্তেফাক















