সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের অস্বাস্থ্যকর দুপুরের খাবার পরিবেশন ঠেকাতে কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অতিরিক্ত চিনি, চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার সরবরাহ বন্ধে আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইংল্যান্ডের প্রায় ২১ হাজার ৫০০ সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলে পুষ্টির মান ঠিক রাখতে জাতীয়ভাবে তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যমিক স্কুলগুলোর তিন-চতুর্থাংশ অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি চিপস ও বার্গারের মতো খাবার পরিবেশন করে। শিশুদের স্থূলতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন তদারকি ও পরিদর্শন ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুলগুলোর রান্নাঘর পরিদর্শনের সময় পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খাদ্যের পুষ্টিমান খতিয়ে দেখা হবে। যেসব স্কুল নিয়মের বাইরে খাবার পরিবেশন করবে, তাদের তিরস্কারের পাশাপাশি মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। ২০১৪ সাল থেকেই স্কুলগুলোতে পুষ্টিকর খাবার বাধ্যতামূলক হলেও নিয়মিত নজরদারির অভাবে বিষয়টি কার্যকর হচ্ছিল না।
শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির ক্ষমতা বাড়িয়ে স্কুলগুলোর ওপর এই নজরদারি জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংস্থাটির প্রধান এবং স্থূলতা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সুসান জেব এই তদারকি প্রক্রিয়া উন্নত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি খ্যাতিমান শেফ জেমি অলিভার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত স্কুল ফুড রিভিউ দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নজরদারির জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।
তবে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর নেতারা মনে করছেন, নিয়মিত কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্কুল পরিদর্শনের এই বাড়তি দায়িত্ব পালন করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। এর আগে ২০২২-২৩ মেয়াদে ১৮টি কাউন্সিল এলাকায় পরিচালিত একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে দেখা গিয়েছিল যে পরিচ্ছন্নতা যাচাইয়ের সঙ্গে পুষ্টিমান পরীক্ষা করতে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বাড়তি সময় লাগে। সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে স্কুলগুলোকে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে।
#ইংল্যান্ড #স্কুলখাবার #স্বাস্থ্য #aknews #onebanglanews















