সাইফ হাসান: পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ঠকানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে বড় ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা ও বাজার তদারকি কর্তৃপক্ষ বা সিএমএ ক্লিনিকগুলোর আসল মালিকানার তথ্য প্রকাশের নিয়ম শিথিল করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে স্থানীয় ক্লিনিক পরিচালনা করতে পারবে। তদন্তে দেখা গেছে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর ক্লিনিকে স্বাধীন চিকিৎসকদের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ বেশি খরচ দিতে হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশু চিকিৎসকদের সংগঠন পিভিএ।
যুক্তরাজ্যের প্রায় সাড়ে ছয় বিলিয়ন পাউন্ডের পোষা প্রাণীর চিকিৎসা বাজারের ৬০ শতাংশের বেশি এখন মাত্র ছয়টি বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিভিএস, পেটস অ্যাট হোম, মেগাভেট, আইভিসি ও ভেটপার্টনার্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত আন্তর্জাতিক প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া লিনিয়াস নামের আরেকটি বড় গ্রুপ পরিচালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কনফেকশনারি জায়ান্ট মার্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
নতুন বিধিমালার প্রাথমিক খসড়ায় করপোরেট গ্রুপগুলোর মূল নাম স্পষ্টভাবে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সিএমএ নিয়ম সংশোধন করে শুধু পরিচিত ব্র্যান্ড নাম বা পুরোনো স্থানীয় ক্লিনিকের নাম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেয়। পিভিএ-এর পরিচালক ড. ইয়ান ম্যাকগিল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই পরিবর্তনের ফলে বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি আসল পরিচয় আড়াল করে ব্যবসা করার বাড়তি সুবিধা পাবে যা গ্রাহকদের সাথে অন্যায়।
এদিকে সিএমএ দাবি করেছে, সাধারণ গ্রাহকদের কাছে মূল বিনিয়োগকারী করপোরেট গ্রুপের জটিল নামগুলোর চেয়ে পরিচিত নাম বেশি অর্থবহ হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ সহজে চিনতে পারে এমন ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করলেই মালিকানার বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং সেবামূল্য নিয়ে স্বচ্ছতা আসবে। তবে স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, মালিকানার পুরো সত্য গোপন থাকলে বাজারে সঠিক প্রতিযোগিতা থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ বেশি খরচের মুখে পড়বে।
#পশুচিকিৎসা #যুক্তরাজ্যসংবাদ #আন্তর্জাতিকসংবাদ #aknews #onebanglanews















