সাইফ হাসান: কারাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি সামলাতে যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার কয়েদিকে আগাম মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মুক্ত পাওয়া এসব ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখার জন্য ইলেকট্রনিক ট্যাগিং বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা পর্যাপ্ত প্রস্তুত নয় বলে সতর্ক করেছে ওয়াচডগ। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রবেশন পরিদর্শক মার্টিন জোন্স জানিয়েছেন বর্তমান পদ্ধতিটি বেশ জটিল এবং এটি সঠিকভাবে কাজ করছে না। এতে করে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া শুরু হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের কারাগারগুলোতে তীব্র আসনসংকট কাটাতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কয়েদিকে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। বর্তমানে দেশটিতে ৮৬ হাজার ৫০০ জন বন্দি রয়েছে, যেখানে খালি আসন রয়েছে মাত্র দুই হাজার ৪০০টি। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন এইচএম ইন্সপেক্টরেট অফ প্রবেশনের প্রধান মার্টিন জোন্স।
এক সাক্ষাৎকারে মার্টিন জোন্স বলেন, বন্দিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বর্তমানে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ট্যাগিং পদ্ধতিটি বেশ পুরানো এবং জটিল। কোনো সাবেক কয়েদি শর্ত ভেঙে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সতর্ক করে না। বরং পুলিশ ও প্রবেশন কর্মকর্তাদের ম্যানুয়ালি তথ্য পরীক্ষা করতে হয়, যা জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে ট্যাগিং ব্যবস্থার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ২৮ হাজার ৭০০ জনে পৌঁছেছে। ফলে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ ও প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তি না থাকলে সরকারের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ভুল আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই দেবে না।
চলতি পরিকল্পনা থেকে ধর্ষণ ও গুরুতর শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের সাজাপ্রাপ্তদের বাদ দেওয়া হলেও অন্যান্য বন্দিরা এই মুক্তির আওতায় থাকবেন। এর আগে গত মাসে ন্যাশনাল অডিট অফিসও এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে ইলেকট্রনিক ট্যাগিংয়ের দ্রুত সম্প্রসারণ জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। সরকার ইতোমধ্যে প্রবেশন বিভাগে এক হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও নীতিগত স্থায়িত্বের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
#aknews #onebanglanews #uknews #prisonsystem #electronicmonitoring















