হিট নেটওয়ার্কের নতুন নিয়মে মূল্যসীমা নেই, ক্ষুব্ধ দক্ষিণ লন্ডনের গ্রাহকরা

42

সাইফ হাসান: ব্রিটেনে হিট নেটওয়ার্ক বা এলাকাভিত্তিক তাপ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য নতুন কিছু নিয়ম চালু করা হলেও তাতে জ্বালানি মূল্যের কোনো সীমা (প্রাইস ক্যাপ) রাখা হয়নি। সরকারের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবজেম-এর এই পদক্ষেপকে ‘নামমাত্র’ বা ‘লোক দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন দক্ষিণ লন্ডনের কাম্বারওয়েল এলাকার বাসিন্দা হান্নাহ স্ট্রিকল্যান্ড। তার দাবি, সাধারণ গ্রাহকদের মতো তারাও একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যসীমা চেয়েছিলেন যা নতুন এই নীতিমালায় পুরোপুরি অনুপস্থিত। ফলে ক্রমবর্ধমান বিশাল বিলের চাপে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া।

২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে ব্রিটেনে হিট নেটওয়ার্কের জন্য অবজেম-এর নতুন বাধ্যতামূলক নিয়মগুলো কার্যকর হয়েছে। এর আগে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল যে তাদের বিলের স্বচ্ছতা নেই এবং সিস্টেম বারবার নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। হান্নাহ তিন বছর আগে কাম্বারওয়েলে নিজের স্বপ্নের বাড়ি কিনেছিলেন কিন্তু এখন অস্বাভাবিক গরম পানির বিল এবং সার্ভিস চার্জের কারণে তিনি রীতিমতো অসহায় বোধ করছেন। তিনি জানান যে আগে জানলে তিনি এই ফ্ল্যাটটি কেনার বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতেন।

সাউথওয়ার্ক বরোতে বর্তমানে ১০১টি হিট নেটওয়ার্ক রয়েছে যা লন্ডনের যেকোনো এলাকার তুলনায় সবচেয়ে বেশি। এখানে প্রায় ১৭ হাজার পরিবার এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হিটিং সুবিধা পায়। রথারহাইড এলাকার বাসিন্দা ডেনিস ও রে দম্পতি জানান যে তাদের কমিউনাল হিটিং সিস্টেমটি প্রতি সপ্তাহেই দুই-তিনবার নষ্ট হয়ে যায়। বাতের ব্যথায় ভোগা ডেনিস বলেন যে শীতে ঘর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় তাকে থরথর করে কাঁপতে হয় যা তার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অবজেম-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী হিটিং খরচ ‘ন্যায্য’ হতে হবে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যসীমা না থাকলেও যদি দাম অতিরিক্ত হয় তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এছাড়া বিল পরিশোধে ব্যর্থ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা এবং উন্নত যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে কোম্পানিগুলোকে তাদের আয়ের ১০ শতাংশ বা ১০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অবজেম-কে।

হিট ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন নাইট এই নতুন নিয়মকে স্বাগত জানালেও বলেছেন যে এটি যথেষ্ট নয়। তিনি মনে করেন গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং মূল্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো এখনও এই নীতিমালায় অনুপস্থিত। এদিকে সাউথওয়ার্ক কাউন্সিল জানিয়েছে যে তারা পুরোনো হিট নেটওয়ার্কগুলো সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। তবে এই সংস্কার কাজের বিশাল ব্যয়ের বোঝা ভবিষ্যতে লিজহোল্ডার বা বাড়ির মালিকদের ওপর চাপানো হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হান্নাহর মতো ভুক্তভোগীরা।

#হিটনেটওয়ার্ক #জ্বালানিবিল #লন্ডননিউজ #aknews #onebanglanews