সাইফ হাসান: লন্ডনের মেট পুলিশের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আস্থাহীনতা বর্তমানে এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যা নিরসনে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে লন্ডন অ্যাসেম্বলি পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিটি। কমিটির এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গেছে লন্ডনের অল্পবয়সীরা পুলিশের কাছে নিজেদের নিরাপদ ভাবার বদলে উল্টো সন্দেহভাজন হিসেবে গণ্য হওয়ার ভয়ে থাকে। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সীদের সাথে পুলিশের আচরণ এবং বিভিন্ন স্ক্যান্ডালের পর এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এই সংকট কাটাতে মেট পুলিশকে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লন্ডন অ্যাসেম্বলি পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিটির রিপোর্টে তরুণদের আস্থা ফেরাতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে লন্ডনের তরুণরা মনে করে পুলিশ তাদের বিশ্বাস করে না এবং কোনো সমস্যায় পড়লে সাহায্যের বদলে তাদের অপরাধীর নজরে দেখে। ২০২২ সালের এক জরিপে দেখা গেছে প্রতি ৫ জন তরুণের মধ্যে ১ জন তাদের নিজস্ব এলাকায় নিজেদের নিরাপদ মনে করে না।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে গত বছর ৩৭১টি স্কুল অফিসার বা এসএসও পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় সহিংস অপরাধের হার বেশি সেখানে এই বিশেষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিকে অনেক স্কুল প্রধান বিপর্যয়কর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও মেট পুলিশ ‘চাইল্ড ফার্স্ট’ নীতি গ্রহণ করেছে কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব নিয়ে এখনো অনেক সংশয় রয়ে গেছে।
লন্ডনের সতেরো বছর বয়সী শিক্ষার্থী লিলি জানান মেট পুলিশের ভেতরে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে নারীরা আতঙ্কিত থাকে। জাতিগত বৈচিত্র্যের অভাব এবং বর্ণবাদী আচরণের ভয়ও তরুণদের মনে কাজ করছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু বা এশিয়ান বংশোদ্ভূত তরুণরা সাদা চামড়ার মানুষের মতো সমান আচরণ পাবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় থাকে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি বছর তরুণদের নিয়ে বড় পরিসরে জরিপ চালানো হবে যাতে তাদের সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এছাড়া পুলিশকে স্থানীয় কিশোর কেন্দ্র এবং স্কুলগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে। মেট পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ম্যাট কক্স জানিয়েছেন তারা এই সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন এবং তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
#লন্ডননিউজ #মেটপুলিশ #তরুণপ্রজন্ম #aknews #onebanglanews















