ব্রিটেনে ভয়াবহ মাদক ‘ওপিওডের’ কারণে বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে মৃ/ত্যু

70

সাইফ হাসান: ব্রিটেনে শক্তিশালী সিন্থেটিক ওপিওড বা নিতেজেনের কারণে মৃ*ত মানুষের সংখ্যা ধারণা করা চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। এই ড্রাগটি হেরোইনের চেয়েও প্রায় ৫০০ গুণ বেশি শক্তিশালী যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে মা\রা গেছে এমন ব্যক্তিদের রক্ত পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সঠিক তথ্য না থাকায় এই সংকট মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিতেজেন নামের এই নতুন ধরনের সিন্থেটিক মাদক হেরোইনের তুলনায় ৫০০ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে পারে। ১৯৫০ এর দশকে এটি ব্যথানাশক হিসেবে তৈরি করা হলেও এর তীব্র আসক্তি তৈরির ক্ষমতার কারণে পরবর্তীতে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে ব্রিটেনে এই মাদকের ব্যবহার বাড়ায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকরা জানিয়েছেন যে নিতেজেনের কারণে মৃত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নথিপত্রের চেয়েও অনেক বেশি। মৃতদেহের রক্ত পরীক্ষায় এই মাদকের উপাদান দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর আসল কারণ শনাক্ত করা যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে থাকা মাদকের মাত্র ১৪ শতাংশ পরীক্ষার সময় অবশিষ্ট থাকে।

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী ব্রিটেনে ৩৩৩ জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে এই মাদককে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে গবেষকরা মনে করছেন আসল সংখ্যাটি এর চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি হতে পারে। বার্মিংহামের মতো শহরগুলোতেও আশঙ্কাজনক হারে এই ড্রাগের কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে যা উদ্বেগজনক।

ডক্টর ক্যারোলিন কোপল্যান্ড বলেন যে আমরা ভুল তথ্য নিয়ে এই সংকটের মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না এবং আরও অনেক মানুষ অকালে ঝরে পড়বে। যারা এই ড্রাগটি ব্যবহার করছেন তাদের পরিবারগুলোও অনেক সময় প্রকৃত কারণ জানতে পারছেন না।

ব্রিটিশ সরকার এই পরিস্থিতিকে ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তারা নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বর্ডার ফোর্সের সদস্যরা এখন ফেন্টানিল এবং নিতেজেন শনাক্ত করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করছেন। মাদক নির্মূলে সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

#ব্রিটেন #মাদক #সতর্কবার্তা #aknews #onebanglanews