টেমস নদীতে বিশাল তিমি উদ্ধারে যেভাবে এক হয়েছিল লাখো মানুষ

219

সাইফ হাসান: আজ থেকে ঠিক বিশ বছর আগে লন্ডনের টেমস নদীতে পথ ভুলে চলে এসেছিল বিশাল এক নর্দার্ন বটলনোজ তিমি। সেই তিমিটিকে বাঁচাতে নদীর পাড়ে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ আর টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল বিশ্বের প্রায় দুই কোটি দর্শক। উদ্ধারকর্মীরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে তিমিটিকে সাগরে ফেরানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে এই একটি ব্যর্থ উদ্ধার অভিযান সেদিন প্রমাণ করেছিল মানবতার খাতিরে মানুষ কতটা এক হতে পারে।

মার্ক স্টিভেন্স নামের এক স্কুল শিক্ষক ও সামুদ্রিক প্রাণী উদ্ধারকর্মী সেই দিনের কথা আজও ভুলতে পারেন না। ২০০৬ সালের ১৯ জানুয়ারি খবর আসে যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে নদীতে একটি বিশাল তিমি দেখা গেছে। খবর পেয়েই তিনি ছুটে যান এবং দেখেন প্রায় ১৯ ফুট লম্বা একটি তিমি নদীর পানিতে সাঁতার কাটছে, যা সাধারণত গভীর আটলান্টিক মহাসাগরে থাকে।

তিমিটিকে একনজর দেখার জন্য লন্ডনের আলবার্ট ব্রিজ ও নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। উদ্ধারকারী দল সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় তিমিটিকে একটি বার্জ বা ভেলার ওপর তোলে। এটিকে সাগরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্রেন ব্যবহার করা হয় এবং সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হয় কারণ জোয়ারের পানি দ্রুত কমে আসছিল।

বার্জে করে তিমিটিকে সাগরের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেভসএন্ড এলাকায় পৌঁছালে সেটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। রব ডেভিলসহ ভেটেরিনারি টিমের শত চেষ্টা সত্ত্বেও তিমিটি শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তিমিটি অনেক দিন ধরে না খেয়ে ছিল এবং বারবার তীরে আটকে গিয়ে শরীরে আ*ঘাত পেয়েছিল।

এই ঘটনাটি বিফল হলেও তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। মার্ক স্টিভেন্স বলেন, তিমিটিকে বাঁচাতে মানুষ যেভাবে এগিয়ে এসেছিল তা ছিল অবিশ্বাস্য। একসময়ের তিমি শিকারী জাতি হিসেবে পরিচিত ব্রিটেন যে এখন বন্যপ্রাণী রক্ষায় কতটা সচেতন, এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।

#London #WhaleRescue #ThamesRiver #BanglaNews #aknews #onebanglanews