লন্ডনের রাস্তায় ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা বসিয়ে অপ*রাধ কমানোর দাবি পুলিশের

127

সাইফ হাসান: দক্ষিণ লন্ডনের ক্রয়ডনে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহারে বড় ধরণের সফলতা পাওয়ার দাবি করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে ফিক্সড ক্যামেরা বসিয়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ বলছে এর ফলে ওই এলাকায় অপ*রাধ এবং দোকান চু*রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ক্রয়ডনের নর্থ এন্ড হাই স্ট্রিটে ১৫টি ফিক্সড ক্যামেরা বসানো হয়েছে যা আগে ভ্যানে করে ব্যবহার করা হতো। পুলিশ কর্মকর্তা কেভিন ব্রাউন জানান, মাত্র তিন মাসের এই ট্রায়ালে ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভুল অ্যালার্ট ছিল মাত্র একটি। স্থানীয় পুলিশ সুপার লুক ডিলন জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির কারণে ফেয়ারফিল্ড ওয়ার্ডে অপরাধের হার ১২ শতাংশ কমেছে এবং দোকান চুরির ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিল। পুলিশ ২০০৪ সাল থেকে পলাতক এক নারী এবং একজন যৌন অপরাধী বা সেক্স অফেন্ডারকেও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করেছে যে অবৈধভাবে ফোন ব্যবহার করছিল। পুলিশ বলছে, মোবাইল ভ্যানের চেয়ে ফিক্সড ক্যামেরা অনেক বেশি কার্যকর এবং গড়ে প্রতি ৩৪ মিনিটে একজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে।

পুলিশ একে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বললেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং নির্দোষ মানুষকে হয়রানির ঝুঁকি বাড়ায়। শন থম্পসন নামের এক ব্যক্তি গত বছর ভুল শনাক্তকরণের শিকার হয়েছিলেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই হাইকোর্টে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ বা মামলা শুরু হতে যাচ্ছে।

ক্রয়ডন বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জোস জোসেফ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কারণ এটি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে এবং তিনি চান এটি আরও বাড়ানো হোক। তবে ল্যান্স পেইন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই অ্যালগরিদম কৃষ্ণাঙ্গ বা গাঢ় রঙের মানুষের ক্ষেত্রে ভুল করতে পারে। সরকার বর্তমানে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য একটি সঠিক আইনি কাঠামো তৈরির কাজ করছে।

#LondonPolice #FacialRecognition #Croydon #aknews #onebanglanews