ব্রিটেনে আবাসন সংকটে প্রবীণরা,বাড়ছে হোমলেস হওয়ার চরম ঝুঁকি

36

সাইফ হাসান: ব্রিটেনে আবাসন সংকট প্রকট হওয়ায় প্রবীণদের মাঝে গৃহহীন হওয়ার প্রবণতা বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চ্যারিটি সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে পর্যাপ্ত সামাজিক আবাসনের অভাব এবং উচ্চ ভাড়ার কারণে বয়স্করা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে প্রবীণদের মাঝে গৃহহীন হওয়ার হার প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। অসুস্থ অবস্থায় অনেককে বাধ্য হয়ে গাড়িতে বা আশ্রয়কেন্দ্রের অস্থায়ী বিছানায় রাত কাটাতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

আবাসন চ্যারিটি সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে অনেক প্রবীণ বর্তমানে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে ভুগছেন। সেন্ট মুঙ্গো-র সিনিয়র ম্যানেজার মেরি ডেনেহি জানান যে তারা এখন ৮৭ বছর বয়সী বৃদ্ধদেরও জরুরি আশ্রয়ের জন্য আসতে দেখছেন। তার মতে পর্যাপ্ত আবাসন না থাকায় বয়স্কদের এখন আর অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হচ্ছে না যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

স্যালভেশন আর্মির প্রতিনিধি ড্যান হল্যান্ড জানান যে বর্তমানে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১০ শতাংশ মানুষের বয়স ৫৫ বছরের বেশি। তিনি বলেন যে আগে মানুষ নিজের বাড়ির মালিক হতে পারলেও এখন বেশিরভাগ মানুষ ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে ভাড়ার টাকা দিতে না পেরে অনেক প্রবীণ শেষ বয়সে এসে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

৬৩ বছর বয়সী রেমন্ডের জীবনকাহিনী এই সংকটের এক করুণ উদাহরণ। বিবাহবিচ্ছেদের পর কোনো ঘর না পেয়ে তিনি টানা সাত সপ্তাহ নিজের গাড়িতে ঘুমানোর ফলে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও স্থানীয় কাউন্সিল থেকে তাকে কোনো অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি যা তার বার্ধক্যকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ১৭ শতাংশ বয়স্ক মানুষ কেবল আবাসন খরচের চিন্তায় সময়মতো অবসরে যেতে পারছেন না। ৬১ বছর বয়সী এডিথ গোমস মুন্ডা জানান যে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় তাকে বারবার জায়গা পরিবর্তন করতে হচ্ছে যা তার জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকার দ্রুত কার্যকর আবাসন নীতি গ্রহণ না করলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

#ব্রিটেন #আবাসন #প্রবীণ #লন্ডননিউজ #aknews #onebanglanews