সাইফ হাসান: ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর আপসহীন নেতৃত্বই তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক অবিচল প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন লড়াই করে গেছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এদেশের রাজনীতির এক অনন্য ধ্রুবতারা।
১৯৯১ সালের সেই উত্তাল সময়ে নির্বাচনের ফলাফল ছিল অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। এরশাদ সরকারের পতনের পর অনেকেই মনে করেছিলেন নবীন এই নেত্রী হয়তো ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনা ছাপিয়ে ধানের শীষের জয়জয়কার সেদিন পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল।
খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে দেশে ব্যাপক সংস্কারমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর সরকারই দেশে ভ্যাট প্রথা চালু করে যা বর্তমানে সরকারের আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ যোগান দিচ্ছে। এছাড়া মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার কৃতিত্ব তাঁরই।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় কারাভোগ ও গৃহবন্দী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছরের বন্দী দশা থেকে মুক্তি পান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১শে নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে তাকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল।
তাঁর রাজনীতি ছিল জনগণের প্রতি গভীর আস্থার প্রতিফলন। ২৩টি আসনে নির্বাচন করে একটিতেও পরাজিত না হওয়ার রেকর্ড তাঁর জনপ্রিয়তার অনন্য প্রমাণ। ইতিহাস তাঁকে সবসময় এমন একজন নেত্রী হিসেবে মনে রাখবে যিনি কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।
#খালেদাজিয়া #রাজনীতি #বাংলাদেশ #গণতন্ত্র #aknews #onebanglanews















