সাইফ হাসান: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হ*ত্যার পর চরম সংকটে পড়েছিল বিএনপি। সেই দুঃসময়ে দলের অস্তিত্ব রক্ষায় রাজনীতিতে নামতে বাধ্য হন বেগম খালেদা জিয়া। মূলত দলের ঐক্য বজায় রাখা এবং জিয়ার আদর্শ ধরে রাখাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। সকল অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি হয়ে ওঠেন দেশনেত্রী।
১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হ*ত্যার শিকার হওয়ার পর বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে চরম কোন্দল শুরু হয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছিলেন এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেককেই নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করেন। এই সংকটকালে দলের সাধারণ কর্মীরা জিয়ার উত্তরাধিকার হিসেবে একমাত্র খালেদা জিয়াকেই তাদের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান এবং একদল জ্যেষ্ঠ নেতা প্রথম দিকে খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসার ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন। তারা বিচারপতি সাত্তারকে সামনে রেখে নিজেদের মন্ত্রীত্ব ও ক্ষমতা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। তবে মাজেদ জেনারেল নুরুল ইসলাম শিশু এবং আকবর হোসেনের মতো নেতারা খালেদা জিয়াকে নেতৃত্বে আনার জন্য দলের ভেতর জোরালো দাবি তোলেন।
১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি ১২ জন ক্যাবিনেট সদস্য খালেদা জিয়ার বাসায় গিয়ে তাকে রাজনীতিতে আসার অনুরোধ জানান। এরশাদ তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন জিয়ার মৃত্যুর পেছনে এরশাদের ষড়যন্ত্র ছিল। অবশেষে ৪ জানুয়ারি ১৯৮২ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং দলের হাল ধরেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি বহু চড়াই-উতরাই পার করেছেন এবং দলের ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে জিয়ার আদর্শের এক শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি হিসেবে খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে তাঁর এই উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
#খালেদাজিয়া #রাজনীতি #ইতিহাস #বিএনপি #বাংলাদেশ #aknews #onebanglanews















