যুক্তরাজ্যে ‘যৌথ অভিভাবকত্ব’ ছুটি নীতি ব্যর্থ হয়েছে,হতাশ বিশেষজ্ঞরা

64

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে প্রবর্তিত যৌথ অভিভাবকত্ব ছুটি নীতি গত এক দশকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। পরিসংখ্যান বলছে সরকারি খাতের প্রতি ৬০ জন কর্মীর মধ্যে একজনেরও কম এই সুবিধা গ্রহণ করছেন। নীতিটি তৈরির পেছনে যারা ছিলেন তারা এখন একে একটি ব্যর্থ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যথাযথ সরকারি প্রচার ও আর্থিক সুবিধার অভাবে এই পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমানে এটি কেবল উচ্চবিত্ত পরিবারের মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি খাতে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে গত পাঁচ বছরে অভিভাবকত্ব ছুটির জন্য করা আবেদনের মাত্র ১.৫৫ শতাংশ ছিল যৌথ ছুটির আবেদন। এনএইচএস এবং বিচার বিভাগসহ বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই হার খুবই হতাশাজনক। সাবেক মন্ত্রী জো সুইনসন যিনি ২০১৫ সালে এই নীতিটি চালু করেছিলেন তিনিও এর বর্তমান অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ড্যাড শিফট নামক একটি সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে এই ছুটির সুবিধা কেবল উচ্চবিত্তরাই নিতে পারছেন। বর্তমানে যারা বছরে অন্তত ৩৭ হাজার ৮০০ পাউন্ড আয় করেন তাদের মধ্যেই এই ছুটির প্রচলন বেশি। নিম্ন আয়ের বাবাদের জন্য এই সুযোগ গ্রহণ করা অর্থনৈতিকভাবে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ব্যর্থতার জন্য যথাযথ সরকারি উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষকদের মতে গত ১০ বছরে বাবাদের সন্তানদের সাথে সময় কাটানোর হার মোটেও বাড়েনি। ফলে এই নীতিটি যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল তা সফল হতে পারেনি এবং এটিকে একটি হারিয়ে যাওয়া দশক হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার বর্তমানে এই ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ১৮ মাসের একটি পর্যালোচনা শুরু করেছে। কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী কেট ডিয়ার্ডেন স্বীকার করেছেন যে বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বাবাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় এবং ভালো বেতনের নিশ্চয়তা না দিলে এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

#যুক্তরাজ্য #অভিভাবকত্ব #ছুটি #পরিবার #নিরাপত্তা #aknews #onebanglanews