চিকিৎসকদের অবহেলায় অ্যাজমা আক্রান্ত ১৩ বছরের এক কিশোরীর করুণ মৃ*ত্যু

85

সাইফ হাসান: লন্ডনের ব্রেন্টে মাত্র ১৩ বছর বয়সে অ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্ত হয়ে এমিলি আলবিনো মা\রা গেছে। গত এক বছরে সে দশবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও চিকিৎসকরা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তার মা-বাবার অভিযোগ বারবার উদ্বেগ জানানোর পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের এড়িয়ে গেছে। এই অকাল মৃ*তের ঘটনায় হাসপাতালের সিস্টেম বা চিকিৎসাব্যবস্থার ব্যর্থতাকে দায়ী করছে পরিবার। মেয়ের বিয়োগান্তক ঘটনার বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লন্ডনের ব্রেন্ট এলাকার বাসিন্দা এমিলি আলবিনো ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার মৃত্যুর আগে গত ১৩ মাসে সে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও জ্বরের সমস্যা নিয়ে নর্থউইক পার্ক হাসপাতালে ১০ বার যাতায়াত করেছিল। এর মধ্যে সাতবার জরুরি বিভাগে এবং তিনবার শিশু বিভাগে তাকে দেখানো হয়।

এমিলির মা তাতিয়ানা এবং বাবা সিরো অভিযোগ করেছেন যে, তারা যখনই মেয়ের অবস্থার অবনতির কথা বলতেন, হাসপাতালের কর্মীরা তা গুরুত্বহীন মনে করে উড়িয়ে দিতেন। তাদের মতে, এমিলির শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক উদ্বেগও বেড়ে গিয়েছিল কারণ কেউ তার কষ্টের কথা ঠিকমতো শুনছিল না। তারা মনে করেন, এটি কেবল একটি সাধারণ মৃত্যু নয় বরং চিকিৎসাব্যবস্থার বড় ধরনের গাফিলতি।

লন্ডন নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি হেলথ কেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য এমিলির পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে তারা স্বীকার করেছে যে এমিলির চিকিৎসায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দলের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। যদি সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ এবং নিয়মিত ফলো-আপ করা হতো, তবে হয়তো এই করুণ পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।

যুক্তরাজ্যে প্রতি ১১ জন শিশুর মধ্যে একজন হাঁপানি বা অ্যাজমা সমস্যায় ভোগে। এমিলির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে। এখন থেকে গুরুতর রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করতে নতুন ট্রায়াজ প্রক্রিয়া এবং ইলেকট্রনিক কেয়ার রেকর্ড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোক সইতে না হয়।

#এমিলি_আলবিনো #চিকিৎসা_অবহেলা #লন্ডন_নিউজ #অ্যাজমা #স্বাস্থ্য_সংবাদ