যুক্তরাজ্যের ভুল নীতিতে বাড়ছে চ্যানেল পাড়ি দেওয়া মানুষের মৃ*ত্যু ঝুঁকি

67

সাইফ হাসান: অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দেওয়া ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের কঠোর পদক্ষেপ উল্টো সংকট গভীর করছে। এতে সাধারণ মানুষের হত্যা ও আঘাতের ঘটনা এবং পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফরাসি পুলিশ অস্ত্র ব্যবহার করায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। নিরাপদ পথ তৈরি না করা পর্যন্ত লা*শ পড়ার এই মিছিল বন্ধ করা অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হিউম্যানস ফর রাইটস নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সংস্থার ১৭৬ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার সীমান্ত আটকাতে ফ্রান্সকে কোটি কোটি টাকা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বরং এই বছর এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ ছোট ডিঙি নৌকায় করে চ্যানেল পাড়ি দিয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি পুলিশ শরণার্থীদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ব্যবহার করছে। অন্যদিকে পাচারকারীরা এখন অনেক বেশি বেপরোয়া এবং তাদের হাতে থাকছে আগ্নেয়াস্ত্র। ২০২৫ সালে ডুনকার্কের একটি ক্যাম্পের কাছে অন্তত চারজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি এক অটিস্টিক কিশোরের মাথায়ও বন্দুক ঠেকিয়েছে তারা।

শরণার্থীদের স্বাস্থ্যের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ছোট নৌকার ইঞ্জিনের জ্বালানি ও নোনা পানির কারণে অনেকের পায়ের চামড়া পচে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে রেকর্ড ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ফ্রান্সের সাথে যৌথভাবে কাজ করার ফলে এই বছর অন্তত ২১ হাজার মানুষকে আটকানো সম্ভব হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই মৃত্যু ও সহিংসতার ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং নিরাপদ রুট চালুর দাবি করেছে।

#যুক্তরাজ্য #মানবাধিকার #চ্যানেল_ক্রসিং #স্মল_বোট #আন্তর্জাতিক_সংবাদ