সাইফ হাসান: নটিংহ্যামে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত এক কিশোরীর মৃত্যুর পেছনে ছিল অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের অবহেলা। করনার আদালত জানিয়েছে, ১৫ বছরের জারা চিসম্যানকে যথাযথ সেবা দেওয়া হয়নি। তার বাবা-মা বারবার সাহায্য চাইলেও তা উপেক্ষা করা হয়। করনারের মতে, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে জারাকে বাঁচানো সম্ভব ছিল। এই ঘটনায় ভবিষ্যতে মৃত্যুরোধে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে জারা। বমি, শরীরব্যথা ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ায় তার বাবা-মা ১১১ নম্বরে কল করে এন্ড ই’তে যান। সেখানে সন্দেহভাজন নোরোভাইরাস বলে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু পরদিন তার অবস্থা আরও খারাপ হয়।
২১ ডিসেম্বর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কর্মীরা বাড়িতে এসে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান মাইকেল হোয় পরে আদালতে স্বীকার করেন, তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং উপসর্গগুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।
২২ ডিসেম্বর জারা হঠাৎ অচেতন হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসকরা বাড়িতে পৌঁছান। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সাড়া মেলে না। ২৩ ডিসেম্বর কুইন্স মেডিকেল সেন্টারে তার মৃত্যু হয়।
জারার বাবা-মা, দুজনেই চিকিৎসক, জানান তিনি ছিলেন মেধাবী ও সঙ্গীতে দক্ষ, ভবিষ্যতে মানবাধিকার আইনজীবী হতে চাইতেন। তার মা বলেন, “সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, তাকে বাঁচানো যেত। আমরা শুধু নিজেদের নয়, তার হারিয়ে যাওয়া জীবনের জন্যও শোক করছি।”
ইস্ট মিডল্যান্ডস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কর্মকর্তা কিলি শেলডন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জারাকে সেই দিন যথাযথ সহায়তা দিতে পারিনি। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল আর না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”















