সাইফ হাসান: উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের ভয়াবহ দিন রক্তাক্ত রবিবার নিয়ে শুরু হলো নতুন অধ্যায়। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক এক প্যারাট্রুপারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার বিচার বসছে বেলফাস্টে। অভিযুক্ত সেনা পরিচিত ‘সোলজার এফ’ নামে, যিনি দুইজনকে হত্যার এবং পাঁচজনকে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে আদালতে দাঁড়াচ্ছেন। পরিবারগুলো ৫৩ বছর ধরে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে আসছিল। এই বিচারকে তারা দেখছেন দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে।
১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ডেরির বগসাইড এলাকায় সেনারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়। সেই দিন ১৩ জন নিহত হন, আরও অনেকে আহত হন। কয়েক মাস পর আরেকজন মারা যান, যাকে রক্তাক্ত রবিবারের ১৪তম শিকার হিসেবে ধরা হয়। ঘটনাটি উত্তর আয়ারল্যান্ডের ‘ট্রাবলস’ সময়ের এক অন্যতম মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
তৎকালীন লর্ড উইডগেরি ট্রাইব্যুনাল সেনাদের দায়মুক্তি দিয়েছিল, কিন্তু ২০১০ সালে লর্ড স্যাভিলের নেতৃত্বে তদন্তে বলা হয়, হত্যাগুলো ছিল ‘অন্যায্য ও অমার্জনীয়’। এরপর ব্রিটিশ সরকার নিহতদের পরিবারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে। প্রতি বছর এই দিনটিকে স্মরণ করে আয়োজন হয় নাটক, চলচ্চিত্র, বই ও স্মৃতিচারণ।
অভিযুক্ত সোলজার এফ-এর পরিচয় গোপন রাখতে আদালত বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পরিচয় প্রকাশ হলে তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী রিপাবলিকানদের নিশানায় পড়তে পারেন। তাই আগের মতোই আদালতে তাকে নীল পর্দার আড়ালে রাখা হবে। বিচারক মি. জাস্টিস ফাওলার জুরি ছাড়াই এ মামলার বিচার কার্য পরিচালনা করবেন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে গ্লেনফাদা পার্কে নিরস্ত্র বেসামরিকদের ওপর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোকে আদালত অবৈধ হিসেবে দেখেছে। বিচারক ফাওলার বলেছেন, প্রমাণগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী এবং এতে অভিযুক্তকে বিচার মুখোমুখি করার মতো ভিত্তি তৈরি হয়।
বিচারটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন নিহতদের পরিবার, সাবেক সেনাদের সংগঠন এবং ব্রিটিশ ও আইরিশ সরকার। একই সময়ে লন্ডন ও ডাবলিন আলোচনা চালাচ্ছে বিতর্কিত ‘লিগ্যাসি অ্যাক্ট’ বাতিল করার বিষয়ে, যা পুরোনো অপরাধের বিচারের পথ বন্ধ করার চেষ্টা হিসেবে আনা হয়েছিল।















