১৯৬০-এর দারিদ্র্যের ছবি: নিক হেজেসের স্মরণ

38
সাইফ হাসান: ইউকে-র ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের দরিদ্র নগরবাসীর জীবনযাত্রার করুণ ছবি তুলেছিলেন ফটোগ্রাফার নিক হেজেস। তার কাজ সমাজে পরিবর্তন এনেছে এবং দারিদ্র্যের বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ৮১ বছর বয়সে ৮ জুন ২০২৫ তিনি মারা যান। শেল্টারের জন্য তার ছবি সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিক হেজেস ২০২৩ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব ফটোগ্রাফিকে বলেন, “১৯৬০-এর দশকে আমরা বিশ্বাস করতাম বিপ্লব সম্ভব। শেল্টারের সঙ্গে কাজ করা উদ্দীপনামূলক ছিল।” ১৯৬৮ সালে শেল্টার তাকে নিয়োগ করে যুক্তরাজ্যের শহরের দরিদ্রদের জীবনযাত্রা ধরতে। তার ছবি বার্মিংহাম, নিউক্যাসল, গ্লাসগো, ম্যানচেস্টার, লিভারপুল ও লন্ডনে তোলা হয়।

তিনি বলেন, “আমার দায়িত্ব ছিল যাদের কণ্ঠ নেই, তাদের ভরসার সম্মান রাখা।” তিনি ৩৫ মিমি লাইকা ক্যামেরা ও প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতেন। ছোট ঘরে কোণে বসে মানুষের জীবন পর্যবেক্ষণ করতেন। তার কালো-সাদা ছবিতে দারিদ্র্যের মধ্যেও পরিবারের বন্ধন, স্থিতিস্থাপকতা ও মর্যাদা ফুটে উঠত। শিশুদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সমাজের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিত।

১৯৬৫ সালে বার্মিংহাম স্কুল অব আর্টে ফটোগ্রাফি পড়ার সময় হেজেস আমেরিকান ফটোগ্রাফার ডোরোথিয়া ল্যাঞ্জ ও ওয়াকার ইভান্সের কাজে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৭২ সালে শেল্টার ছেড়ে তিনি মেনক্যাপ, বিবিসি ও পেঙ্গুইন বুকসের জন্য ফ্রিল্যান্স করেন। ১৯৭৬ সালে তার ছবি লন্ডনের আইসিএ-তে প্রদর্শিত হয়। ১৯৮২ সালে তার বই ‘বর্ন টু ওয়ার্ক’ প্রকাশিত হয়।

১৯৮০ সালে তিনি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস কলেজে ফটোগ্রাফির প্রধান হন। ২০০৩ সালে অসুস্থতার কারণে শিক্ষকতা ছাড়েন। তার শেল্টারের ছবি ২০১৪ সালে লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে ‘মেক লাইফ ওয়ার্থ লিভিং’ প্রদর্শনীতে প্রশংসিত হয়। কেন লোচ বলেন, “নিকের কাজ মানবিক এবং এটি জীবনের প্রমাণ।” হেজেসের কাজ সামাজিক ইতিহাস বোঝার জন্য অমূল্য।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian