সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডের টাটবুরি গ্রামে ময়ূর ও মুরগির উপদ্রব নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এদের পছন্দ করলেও, অনেকে ফসল নষ্ট, ট্রাফিক বিঘ্ন ও ময়লার কারণে ক্ষুব্ধ। গত ২৫ বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সমাধানে ব্যর্থ।
ইংল্যান্ডের পূর্ব স্টাফোর্ডশায়ারের টাটবুরি গ্রামে গত ২৫ বছর ধরে ময়ূর ও মুরগির সংখ্যা বাড়ছে। এই পাখিরা ফসল নষ্ট করে, রাস্তায় ট্রাফিক বন্ধ করে এবং গাড়ির ওপর হামলা করে। স্থানীয় বাসিন্দা জর্জ বলেন, “ময়ূররা গ্রামে মারমাইটের মতো—কেউ খুব পছন্দ করে, কেউ একেবারেই অপছন্দ করে।” তিনি গ্রামের বাগানে ফসল রক্ষার জন্য বেড়া দিয়েছেন, কিন্তু ময়ূরদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন।
গ্রামবাসীদের মতে, এই ময়ূরদের উৎস টাটবুরি কাসল। বহু বছর আগে দুর্গে তিনটি ময়ূর রাখা হয়েছিল। কে তাদের রেখেছিল বা দেখাশোনা করত, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু একদিন তাদের দেখাশোনা বন্ধ হয়ে যায়, এবং ময়ূররা গ্রামে খাবারের খোঁজে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলেন, টাটবুরি কাসল ডাচি অফ ল্যাঙ্কাস্টারের অংশ হওয়ায় এই ময়ূররা রাজার সম্পত্তি, তাই এদের নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
হামফ্রে ও জ্যাকি টুন, যারা সারা জীবন টাটবুরিতে বসবাস করেছেন, বলেন, “ময়ূররা ভোর সাড়ে চারটায় ডেকে আমাদের ঘুম ভাঙায়। এরা বাস থামায়, গাড়ির ওপর হামলা করে এবং সর্বত্র ময়লা ফেলে।” ৭৮ বছর বয়সী হামফ্রে ও ৬৪ বছর বয়সী জ্যাকি এই পরিস্থিতির মজার দিকটাও দেখেন, তবে এদের উপদ্রব তাদের জন্য বিরক্তিকর। এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা বলেন, “এ যেন চিড়িয়াখানায় আটকে থাকার মতো। ময়ূররা সব সময় চারপাশে থাকে, তাদের ডাকের কারণে ঘুমানো কঠিন।”
এই সমস্যা গ্রামে এতটাই গুরুতর যে অনেকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এড়াতে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। এক বাসিন্দা বলেন, তিনি ও তাঁর সঙ্গী অস্ত্রোপচারের পর আরোগ্য লাভে বাধা পাচ্ছেন ময়ূরদের ক্রমাগত ডাকের কারণে। তারা টাটবুরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। স্থানীয় প্যারিশ ও বরো কাউন্সিল জানায়, তারা এই সমস্যা সম্পর্কে অবগত, কিন্তু ময়ূরদের মালিকানা কার, তা স্পষ্ট না হওয়ায় তারা কিছু করতে পারছে না।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















