সাইফ হাসান: রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস অব এডিনবার্গের ডেন্টাল সার্জারি অনুষদের ডিন প্রফেসর গ্রান্ট ম্যাকইনটায়ার একটি চিঠিতে ড. মাইক মিউ-এর প্রচারিত ‘অর্থোট্রপিক্স’ এবং ‘মিউইং’ ব্যায়ামের বিপদ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি আধুনিক যুগের “কোয়াকারি” বা ভুয়া চিকিৎসা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ব্রিটিশ অর্থোডন্টিক সোসাইটির বরাত দিয়ে তিনি জানান, মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন করে মুখের আকৃতি পরিবর্তন, বুদ্ধি বৃদ্ধি বা আয়ু বাড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই।
ম্যাকইনটায়ার বলেন, ‘ক্র্যানিওফেসিয়াল ডিস্ট্রফি’ নামে কিছু নেই, এবং দাঁতের অসামঞ্জস্য জেনেটিক্স, হাড়ের বৃদ্ধি এবং পেশির বিকাশের জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফল। দাঁতের সারিবদ্ধতা, কামড়ের সমস্যা এবং মুখের অসামঞ্জস্যের জন্য প্রচলিত অর্থোডন্টিক চিকিৎসা সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর, যা প্রশিক্ষিত দন্তচিকিৎসকদের দ্বারা করা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে, যোগ্য ওরাল এবং ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, জেনারেল ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে বহিষ্কৃত ড. মিউ অর্থোডন্টিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করেন। অর্থোট্রপিক্সে ব্যবহৃত অনেক যন্ত্র প্রচলিত অর্থোডন্টিক্স থেকে এসেছে, তাই মিউ-কে অর্থোডন্টিস্ট বলা বিভ্রান্তিকর এবং তার ভুয়া বিজ্ঞানকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিতে পারে। তিনি গার্ডিয়ানকে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে দন্তচিকিৎসা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অপ্রমাণিত পদ্ধতির প্রচলন বাড়ছে, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে। এই চিঠি থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে জনগণকে প্রশিক্ষিত দন্তচিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা এবং ভুয়া চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অপ্রমাণিত পদ্ধতির প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















