সাইফ হাসান: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অভিবাসন নিয়ে বক্তৃতা কালো ও এশীয় ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তিনি ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ অভিবাসনকে সমাজের জন্য ‘অপরিমেয়’ ক্ষতির কারণ বলায় সমতা সংগঠনগুলো এটিকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছে। বক্তৃতাটি লেবার পার্টির সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। এটি গাজা, দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ ও সাজা সংস্কারের মতো ইস্যুতে লেবারের অবস্থানের পর আরেকটি ধাক্কা।
কিয়ার স্টারমারের বক্তৃতায় তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন দেশকে ‘অপরিচিতদের দ্বীপ’ বানিয়ে ফেলতে পারে। এই ভাষা সমতা সংগঠন ব্ল্যাক ইকুইটি অর্গানাইজেশনের কাছে উদ্বেগজনক। তারা বলেছে, “দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ, গাজার মানবিক সংকট ও সাজা সংস্কারের স্থগিতাদেশের মতো বিষয়গুলো সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি।” সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি।
রানিমিড ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী শাবনা বেগম স্টারমারের ভাষাকে ‘পাওয়েলের মতো’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই প্রস্তাবনা অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান নয়, বরং রিফর্ম ইউকে’র ভয়ে সংখ্যালঘুদের প্রতি বর্ণবাদ বাড়াচ্ছে।” গত গ্রীষ্মে বর্ণবাদী সহিংসতার পর স্কটিশ রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান সাবির জাজাই বলেন, “স্টারমার এমন বক্তৃতা দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর দোষ চাপাচ্ছেন, যারা শান্তিতে বাঁচতে চায়।”
ব্রিটিশ ফিউচারের পরিচালক সুন্দর কাটওয়ালা বলেন, “স্টারমারের নীতি সুষ্ঠু হলেও তাঁর ভাষা সংখ্যালঘু ব্রিটিশদের অবদানকে ছোট করছে।” মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের ড. ওয়াজিদ আখতার বলেন, “অভিবাসীরা এনএইচএস থেকে সামাজিক যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাদের দোষারোপ নয়, স্বীকৃতি প্রয়োজন।” তিনি ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধি ও প্যালেস্টাইন ইস্যুতে স্টারমারের নীরবতার সমালোচনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনন্দ মেনন বলেন, “লেবার ডান ও বাম উভয় দিক থেকে চাপে আছে।” এ বছরের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার ১৫৩টি আসন রিফর্মের কাছে, ১৪টি গ্রিনদের কাছে এবং ১২টি স্বতন্ত্রদের কাছে হারায়। গাজার অবস্থানের কারণে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় লেবার পাঁচটি আসন হারিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে স্টারমারের বক্তৃতার প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















