লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক ক্যাব ২০৪৫ সালের মধ্যে রাজধানী থেকে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যেতে পারে, যদি এই শিল্পের অবনতি রোধে জরুরি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। থিংক ট্যাঙ্ক “সেন্টার ফর লন্ডন” পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্ল্যাক ক্যাব চালানোর জন্য চালকদের যে “দ্য নলেজ” পরীক্ষা দিতে হয়—যেখানে শহরের প্রতিটি রাস্তা ও পথঘাট মুখস্থ করতে হয়—তার নিয়ম সহজ করা দরকার, যাতে এটি আধুনিক ট্যাক্সি পরিষেবার সঙ্গে খাপ খায়। বর্তমানে এই কঠোর পরীক্ষার কারণে নতুন চালকদের সংখ্যা কমছে, যা ভবিষ্যতে শিল্পের টিকে থাকার জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।
ব্ল্যাক ক্যাব সংকটের কারণ
গবেষণায় বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে ব্ল্যাক ক্যাব শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে—
নতুন চালকের অভাব – কঠোর “দ্য নলেজ” পরীক্ষার কারণে নতুন চালকরা পেশায় আসতে আগ্রহী নয়।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন – অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পরিষেবা (যেমন উবার, বোল্ট) জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা ব্ল্যাক ক্যাবের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।
ব্যয়বহুল ইলেকট্রিক ক্যাব – পরিবেশবান্ধব নীতি অনুসারে নতুন ইলেকট্রিক ব্ল্যাক ক্যাব চালানো বাধ্যতামূলক হয়েছে, যা অনেক চালকের পক্ষে কেনা কঠিন।
যাত্রী কমে যাওয়া – কোভিড-১৯ মহামারির পর যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে চালকদের আয়ও কমেছে।
TfL-এর প্রতিক্রিয়া
ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL) জানিয়েছে, তারা শিগগিরই “ট্যাক্সি ও প্রাইভেট হায়ার অ্যাকশন প্ল্যান” প্রকাশ করবে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে ব্ল্যাক ক্যাব চালকদের সহায়তা করা এবং এই পরিষেবাকে টিকিয়ে রাখা।
TfL-এর এক মুখপাত্র বলেন,
“লন্ডনের ব্ল্যাক ক্যাব একটি ঐতিহ্যবাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা। আমরা চাই এটি ভবিষ্যতেও টিকে থাকুক। এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করবো।”
LTDA-এর প্রতিক্রিয়া
লাইসেন্সড ট্যাক্সি ড্রাইভারস অ্যাসোসিয়েশন (LTDA)-এর সাধারণ সম্পাদক স্টিভ ম্যাকনামারা গবেষণার এই রিপোর্টকে “সবচেয়ে খারাপ পূর্বাভাস” বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন,
“এটি অবশ্যই একটি উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বাণী, তবে আমরা আশা করি TfL এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।”
সম্ভাব্য সমাধান
গবেষণা প্রতিবেদনে ব্ল্যাক ক্যাব শিল্পকে রক্ষা করার জন্য কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়েছে—
“দ্য নলেজ” পরীক্ষা সহজ করা – যাতে নতুন চালকদের সংখ্যা বাড়ানো যায়।
অ্যাপ-ভিত্তিক ব্ল্যাক ক্যাব পরিষেবা চালু করা – প্রতিযোগিতার সঙ্গে টিকে থাকার জন্য ডিজিটাল সেবা বাড়ানো।
চালকদের জন্য ভর্তুকি ও সহায়তা – ইলেকট্রিক ক্যাব কেনার জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া।
নতুন রুট ও সুবিধা – ব্ল্যাক ক্যাবের জন্য নির্দিষ্ট লেন এবং নতুন সুবিধা চালু করা।
শেষ কথা
ব্ল্যাক ক্যাব শুধু একটি পরিবহন মাধ্যম নয়, এটি লন্ডনের ঐতিহ্যের অংশ। তবে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই শিল্পকে রক্ষা করতে কী ব্যবস্থা নেয়।















