প্রথম বিতর্কে ঋষি সুনাকের কাছে কিয়ার স্টারমার ধরাশায়ী

154

ওয়ানবাংলানিউজ: ৪ জুলাই ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে টেলিভিশনে প্রথম লাইভ বিতর্কে অংশ নিয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার। মঙ্গলবার রাত ৯টায় আইটিভিতে প্রচারিত মুখোমুখি বিতর্কে এনএইচএস এর সেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকট, শিক্ষা এবং ইমিগ্রেশন ইস্যুতে কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর দেন দুই নেতা। প্রথম প্রশ্নটি আসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকট নিয়ে। প্রশ্ন করেন দর্শক সারিতে বসা হাডারসফিল্ডের বাসিন্দা পলা।

দুই নেতাই পলার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে প্রশ্নের উত্তর শুরু করেন। এরপরই শুরু হয়ে যায় যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি।

এনএইচএস এর চিকিৎসা পেতে এনএইচএস এর অপেক্ষমাণ তালিকা অনেক লম্বা। দীর্ঘ এই অপেক্ষার বিষয়ে ঋষি সুনাক যখন উত্তর দিছহিলেন তখন দর্শক সারি থেকে সমস্বরে হাসি শোনা যায়।

এরপর দুই নেতাকে সরাসরি প্রশ্ন করে হ্যাঁ, অথবা না উত্তর দিতে বলা হয়। প্রশ্নটি ছিলঃ আপনজনের জরুরি সার্জারির প্রয়োজন হলে একমাত্র বিকল্প যদি হয় বেসরকারি হাসপাতালে সার্জারি করিয়ে নেয়া, তাহলে তাঁরা করাবেন কিনা।

নির্বাচনে কোন দল জিতলে কম এবং বেশী আয়কর দিতে হবে? দুই নেতাই ট্যাক্স, ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স এবং ভিএটি বৃদ্ধি করবেন না বলে সম্মতি দেন।

কিন্তু ট্যাক্স বৃদ্ধি না করলে সরকারি সেবার খরচ তাঁরা কীভাবে সামাল দেবেন?

এরপর দুই নেতা নানা প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে একে অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলেন এবং পেনশন ইস্যুতে একে অন্যের কথার মধ্যে কথা বলে বাধা সৃষ্টি করেন।

এরপর দর্শক সারি থেকে ওয়ারিংটনের বাসিন্দা স্তিভেন প্রশ্ন করেন ইমিগ্রেশন বিষয়ে।

ইমিগ্রেশন ইস্যুতে বিতর্ক চলাকালে দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুই নেতার কণ্ঠ অনেক বেশী চড়ে গেলে বিতর্কের মডারেটর দুই নেতাকে কণ্ঠ নিচু করে কথা বলার অনুরোধ করেন।

এসাইলাম সীকারদের রুয়ান্ডা পাঠানোর নীতিতে দুই নেতার মধ্যে স্পষ্ট দুই রকম দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়।

কিয়ার স্টারমার বলেন, তিনি কাল্পনিক এবং অর্থহীন প্রতিশ্রুতি দেন না। সব কিছু পরিবর্তন করে ফেলার জন্য তাঁর কাছে “কোন জাদুর কাঠি নেই” উল্লেখ করে কিয়ার স্টারমার বলেন, ব্রিটেনের পক্ষে আরও ভালো করা সম্ভব এবং অবশ্যই ভালো করতে হবে। অন্যদিকে ঋষি সুনাক কম মাইগ্রেশন, কম ট্যাক্স এবং সুরক্ষিত পেনশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ভোটাররা জানেন আমি কিসের পক্ষে আমার অবস্থান। বিতর্কের পরপরই ইউগভ এর উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে ৫১ শতাংশ সমর্থন পেয়ে ঋষি সুনাক বিতর্কে জয়লাভ করেছেন।