ওয়ানবাংলানিউজ: ২রা মে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে লন্ডন মেয়র নির্বাচন। মেয়র পদে প্রার্থী ১৩ জন। ষাট লাখের বেশী ভোটার ভোট দিতে পারবেন। ভোট কেন্দ্র খোলা হয় সকাল ৭ টায়। লন্ডনের মেয়র বার্ষিক ২০ বিলিয়ন পাউন্ড বাজেট এর তত্ত্বাবধান করেন। লন্ডন মেয়র মেট্রোপলিটন পুলিসের দায়িত্বে আছেন; ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান করেন; এছাড়া লন্ডনের হাউজিং এর নীতি ও কৌশল নির্ধারনে মেয়রের প্রভাব আছে।
বুধবার ছিল নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। শেষবারের মতো নিজ নিজ দলের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ও উল্লাস প্রকাশের শেষ সুযোগ ছিল এদিন। আবার দলের বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেয়ারও সুযোগ নেন প্রার্থীরা।
বুধবার সকালে মেয়র সাদিক খান তাঁর ফ্রি স্কুল মিল নীতির প্রচারণার জন্য একটি বিজ্ঞাপন ভ্যান উদ্বোধন করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ভ্যান আর আসেনা; সাংবাদিকেরাও অপেক্ষায়। পরে জানা গেলো ভ্যানের ড্রাইভার ঘুম থেকে উঠতে দেরি করে ফেলেছেন। কিন্তু তারপরও সাদিক খান তাঁর প্রচারণা চালিয়ে যান।
কনজারভেটিভ দলের মেয়র প্রার্থী সুজান হল বুধবার সকালে প্রচারণা শুরু করেন চিংফোরড এলাকায়; তাঁর সাথে যোগ দেন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার অলিভার ডাউডেন। তাঁর সাথে ছিল একটি বড় বাস; তিনি সাদিক খানের ইউলেজ পলিসি এবং সম্ভাব্য পে-পার-মাইল নীতির সমালোচনা করেন।
লিবডেম প্রার্থী রব ব্ল্যাকি মউলডেন এলাকায় প্রচারণা চালান বুধবার। তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো লন্ডনের পুলিসিং ব্যবস্থার সংস্কার করা।
গত মেয়র নির্বাচনে গ্রিন পার্টি তৃতীয় স্থানে ছিল। এবার তাঁরা চাইবে তাদের আগের অবস্থান ধরে রাখতে।
এবারের নির্বাচনী প্রচারণা অতীতের চেয়ে ভিন্ন ছিল। সোশাল মিডিয়ায় এক দলের বিরুদ্ধে অন্য দলের ব্যাপক সমালোচনা ছিল। জনগণের সামনে সকল মেয়র প্রার্থীর মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নোত্তর দেয়ার ঐতিহ্যবাহী নিয়ম হাসটিং হয়ে মাত্র একটি।
কেবল নির্বাচনী প্রচারণায় নতুনত্ব আসেনি, ভোট দেয়ার পদ্ধতিতেও এবার পরিবর্তন এসেছে। ভোট দিতে হলে ভোট কেন্দ্রে পরিচয়পত্র নিয়ে যেতে হবে। ভোটার আইডি হিসেবে নেয়া যাবে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বয়স্ক ব্যক্তিদের বাস পাস, অথবা ব্লু ব্যাজ। যাদের কোনো ধরনের আইডি নেই, তাঁরা ভোটার অথোরিটি সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করে থাকলে সেটি সাথে নিয়ে যেতে পারেন।
লন্ডন মেয়র নির্বাচন হলেও ভোট দিতে হবে তিনটি। একটি মেয়র প্রার্থীকে, একটি লোকাল এসেম্বলি মেম্বারকে আর তৃতীয়টি লন্ডন-ওয়াইড এসেম্বলি মেম্বারকে। সংসদের আদলে চলা লন্ডন সিটি হলে এসব এসেম্বলি মেম্বার হবেন একেকজন সংসদ সদস্যের মতো। তাঁরা মেয়রকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবেন। গোলাপি রঙের ব্যালটে ভোট দিতে হবে মেয়র প্রার্থীকে; হলুদ রঙের ব্যালটে ভোট দিতে হবে লোকাল এসেম্বলি মেম্বারকে আর কমলা রঙের ব্যালটে ভোট দিতে হবে লন্ডন-ওয়াইড এসেম্বলি মেম্বারের জন্য। রাত দশটা পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া যাবে।














